রবিবার বিকেলে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গঠিত ‘টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন’ (টিএফআই) এবং ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল’ (জেআইসি)-এর মাধ্যমে বিরোধীদলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নির্মম নির্যাতন এবং বলপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।
এই স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে, আটককৃত ১৩ জন সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
রবিবার সকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাইনুল ইসলাম পলক ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আবেদনটি জমা দেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বর্তমান পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁরা ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্যে আদালতের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অনুমতি চেয়েছেন।
ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (পিআরএল), লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল মো. সরোয়ার বিন কাশেম, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী।
উল্লেখ্য, এই কর্মকর্তারা অতীতে র্যাব এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির করার সম্ভাব্য প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে পুরো এলাকাটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিচারিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছেন।