সীমান্ত এলাকায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি স্থানীয় জনমনে গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার বিবরণে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শনিবার বিকেল থেকেই জামাল উদ্দিন নিখোঁজ ছিলেন। তিনি বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে এক নির্মম সংবাদের মাধ্যমে।
শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভালুকমারা গ্রামের সন্নিকটে লোভাছড়া সীমান্ত এলাকায় তার গুলিবিদ্ধ ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্থানীয় থানায় অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রবিবার ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রাথমিক তদন্তের তথ্য প্রকাশ করেছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, জামাল উদ্দিন সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে একটি সুপারি বাগানে অবস্থানকালে ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের রোষানলে পড়েন তিনি।
একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি কোনোক্রমে বাংলাদেশের সীমানায় ফিরে আসতে সক্ষম হন, কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর জখমের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনার পেছনের সঠিক কারণ উদঘাটনে তারা তৎপর রয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার সকালেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের এমন মৃত্যু এবং ভারতীয় নাগরিকদের গুলিবর্ষণের ঘটনা দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।