সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার ব্যাংক লকারে মিলল ৮৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:০৬ পিএম

শেখ হাসিনার ব্যাংক লকারে মিলল ৮৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার
ছবি: Collected

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালিকানাধীন ব্যাংক লকার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার দিলকুশায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় অভিযান চালিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল বা সিআইসি এই সম্পদ খুঁজে পায়।

 

এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শেখ হাসিনার নামে নিবন্ধিত দুটি লকার খোলার পর সেখান থেকে প্রায় ৮৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং আরও বেশ কিছু মূল্যবান সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে এনবিআরের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রথমে পূবালী ব্যাংকে শেখ হাসিনার নামে থাকা একটি লকার তল্লাশি করেন। তবে সেই লকারটিতে কোনো মূল্যবান বস্তু পাওয়া যায়নি। এরপর সন্ধ্যায় অগ্রণী ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

সেখানে ৭৫১ এবং ৭৫৩ নম্বর লকার দুটি খোলার পর গোয়েন্দারা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের সন্ধান পান। এই লকারগুলো গত ১৭ সেপ্টেম্বর এনবিআরের গোয়েন্দা নজরে এসেছিল এবং তখনই তা চিহ্নিত করে রাখা হয়েছিল। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মঙ্গলবার সেগুলো খুলে সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণের কাজ শুরু হয়। এই অভিযানের আইনি ভিত্তি মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায়।

 

গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ে আদালত এই দুই পলাতক আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়, বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ রাজনৈতিক আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে।

 

ট্রাইব্যুনালের সেই নির্দেশনার আলোকেই সরকার পলাতক আসামিদের সম্পদ চিহ্নিত ও জব্দ করার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও কর ফাঁকির অভিযোগ উঠতে থাকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এনবিআরকে এসব অনিয়মের তদন্ত করার কঠোর নির্দেশ দেয়।

 

তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১০ সেপ্টেম্বর পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখায় অভিযান চালিয়ে শেখ হাসিনার ১২৮ নম্বর লকারটি জব্দ করা হয়েছিল। এছাড়া তাঁর দুটি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ বা 'ফ্রিজ' করা হয়, যার একটিতে ১২ লাখ টাকার এফডিআর এবং অন্যটিতে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা গচ্ছিত ছিল। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর লুকিয়ে রাখা বা অঘোষিত সম্পদের সন্ধানে তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

 

উদ্ধারকৃত স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য সম্পদ বর্তমানে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর আদলে পরিচালিত এই অভিযানে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।