সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:০৩ পিএম

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু
ছবি: Collected

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই শীর্ষ নেতা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তাঁরা জানিয়েছেন, আদালতের রায় কার্যকর করতে এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগ ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে।

 

আদালতের এই রায়ের পর পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে চলে আসে। যেহেতু তাঁরা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাই তাঁদের আইনের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ইন্টারপোলের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

এই রেড নোটিশ জারি হলে ইন্টারপোলের ১৯০টিরও বেশি সদস্য দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই দুই পলাতক আসামিকে শনাক্ত এবং সাময়িকভাবে গ্রেপ্তার করতে পারবে। পরবর্তীতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার পথ সুগম হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছরের জুলাই মাসে ছাত্ররা যখন ন্যায্য দাবিতে রাজপথে নেমেছিল, তখন তৎকালীন সরকার প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে নজিরবিহীন দমন-পীড়ন চালিয়েছিলেন।

 

এই ঘটনাকে ট্রাইব্যুনাল ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করেছে। ঐতিহাসিক সেই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এই মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হয়। এখন সেই রায় বাস্তবায়নে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তৎপর হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক কোনো প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়ার ঘটনা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

 

এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আইনি দিক থেকেও জটিল। তবে পুলিশ প্রশাসন আশাবাদী যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা তৈরি না হয়।