সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ দুর্নীতির তিনটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০১:১২ পিএম

পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ দুর্নীতির তিনটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড
ছবি: File Photo

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ আজ এক নজিরবিহীন রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনটি পৃথক মামলায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলাগুলোতে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

 

যেহেতু তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং গ্রেফতার হননি, তাই তার অনুপস্থিতিতেই এই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন আজ সকাল ১১টা ২৩ মিনিটে জনাকীর্ণ আদালতে রায় পড়া শুরু করেন এবং ১১টা ৪০ মিনিটে তা শেষ করেন। তিনটি মামলার প্রতিটিতে সাত বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

 

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন যে, কোনো প্রকার আবেদন ছাড়াই এবং আইনগত এখতিয়ারের সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে শেখ হাসিনাকে এই প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের শামিল। এর আগে, গত ২৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজকের দিনটি রায়ের জন্য ধার্য করেছিলেন।

 

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের শুরুতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে এই মামলায় মোট ১২ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

দুর্নীতির এই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হলে শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের নামও উঠে আসে। দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান অন্য একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৫ জনকে আসামি করেন, যার অভিযোগপত্রে পরবর্তীতে ১৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

এছাড়া, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি দুদকের আরেক সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া শেখ হাসিনা ও তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় চূড়ান্তভাবে ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই আদালত এই তিনটি মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ২৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং যাবতীয় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আজ এই রায় প্রদান করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক কোনো সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে এ ধরনের রায় দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পলাতক থাকায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।