রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবাধিকার কমিশনকে ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ হিসেবে স্বীকৃতি

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩৪ পিএম

মানবাধিকার কমিশনকে ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ হিসেবে স্বীকৃতি
ছবি: File Photo

বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও নির্যাতন প্রতিরোধে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (NHRC) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ বা ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম (NPM) হিসেবে কাজ করার আইনগত এখতিয়ার প্রদান করে একটি নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই অধ্যাদেশ পাসের ফলে এখন থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও কার্যকর অবস্থান নিতে পারবে।

 

জাতিসংঘের ‘কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার’ বা নির্যাতনবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রোটোকল (OPCAT)-এর আওতায় কমিশনকে এই বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অপমানজনক আচরণ বা শাস্তিবিরোধী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী একটি রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার রক্ষার অংশ হিসেবেই সরকার এই সংশোধনীটি অনুমোদন করেছে।

 

বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, নতুন এই আইনের ফলে মানবাধিকার কমিশনের কার্যপরিধি ও ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল। এনপিএম বা জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে কমিশন এখন থেকে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

 

এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কমিশন এখন দেশের যেকোনো আটককেন্দ্রে বা ডিটেনশন সেন্টারে স্বাধীনভাবে এবং আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম চালাতে পারবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, কারাগার, সংশোধনাগার বা অন্য যেকোনো স্থানে যেখানে মানুষকে আটক রাখা হয়, সেখানে কোনো প্রকার নির্যাতন বা অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার পূর্ণ স্বাধীনতা এখন কমিশনের হাতে ন্যস্ত থাকবে।

 

পূর্বে কমিশনের কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা থাকলেও, এনপিএম হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে তারা এখন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হবে। মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন বন্ধে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এই অধ্যাদেশ একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। এর আগে গত ৩০ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

 

আজ চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে সেই আইনি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলো। সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।