যদিও এটি একটি মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প ছিল, কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘন ঘন এমন কম্পন ভূতাত্ত্বিক ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা জানান, বৃহস্পতিবার ঠিক বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ৪৪.৫ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর ঘোড়াশালে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র একে ‘মৃদু’ শ্রেণীর ভূমিকম্প হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে বারবার একই অঞ্চল থেকে কম্পন সৃষ্টি হওয়ায় তারা নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে কম্পন চলাকালীন ছোটাছুটি না করে ঘরের কোণে বা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়ার মতো পূর্বঘোষিত নিরাপত্তা নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাফি আল ফারুক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের এই মৃদু কম্পনে ঢাকা বা এর আশপাশের এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘন ঘন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত চার দিনের মধ্যে যে পাঁচটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, তার সবকটিরই উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরবর্তী নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায়। একই ফল্ট লাইন বা চ্যুতি থেকে বারবার শক্তি নির্গত হওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে গত শুক্রবার ভোরে আঘাত হানা ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ছিল এই সিরিজের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক। ওই ঘটনায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছিল। শক্তিশালী সেই কম্পনে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ। এছাড়া বেশ কিছু ভবনে ফাটল ধরাসহ কাঠামোগত ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছিল।
শুক্রবারের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবারের এই নতুন কম্পন মানুষের মনে গভীর ভীতি সঞ্চার করেছে। ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, নরসিংদী অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ প্লেটের নড়াচড়া বা শক্তি নির্গমনের ফলেই এমনটা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় কোনো দুর্যোগের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। আপাতত নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।