বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়া মাত্রই তাকে বিদেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। মাহদী আমিন তাঁর বার্তায় জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপদে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্বলিত একটি বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
লন্ডনের যে হাসপাতালে বেগম জিয়া এর আগে চিকিৎসা নিয়েছিলেন এবং যেখানে চার মাস অবস্থানের পর তাঁর স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল, তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সেই হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বেগম জিয়ার আগের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা বিদেশি চিকিৎসক দলের সঙ্গেও পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না শনিবার এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম জিয়াকে দেখতে যান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বেগম জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি জানান, চিকিৎসকদের মতে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনও দীর্ঘ আকাশপথে ভ্রমণের জন্য পুরোপুরি অনুকূল বা স্থিতিশীল নয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মান্না বলেন, "তাঁকে এখনই বিদেশে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তবে চিকিৎসকরা আশাবাদী যে খুব শীঘ্রই তাঁর শারীরিক অবস্থার কাক্সিক্ষত উন্নতি হবে।" তিনি আরও জানান, চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের কথাও বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরিবার ও মেডিকেল বোর্ড। মান্না আশা প্রকাশ করেন, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন।
৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর হৃদরোগ ও ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এবং সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শুক্রবার রাতে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তাঁর কিডনির কার্যকারিতার কিছুটা অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস ও চোখের জটিলতায় ভুগছেন। এছাড়া তাঁর হৃদযন্ত্রে স্থায়ী পেসমেকার বসানো রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড তাঁকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।