রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক এক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করা দেশের অন্যতম প্রধান এই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা নিয়ে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা রয়েছে।
সেই প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই। পাসপোর্টের মেয়াদ বা বৈধতা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকলেও ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে তিনি সহজেই দেশে ফিরতে পারবেন।
মূলত ট্রাভেল পাস হলো এমন একটি বিশেষ ভ্রমণ দলিল, যা সাধারণত পাসপোর্ট না থাকলে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের জরুরিভিত্তিতে নিজ দেশে ফেরার জন্য প্রদান করে থাকে। সেমিনারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে ঠিক কোন আইনি মর্যাদা বা ‘স্ট্যাটাসে’ অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে সরকারের কাছে এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট কোনো দাপ্তরিক তথ্য নেই।
তবে তিনি কূটনৈতিক রীতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় তার নিজ দেশে ফিরে যেতে চান, তবে তাকে আটকে রাখা বা বাধা প্রদান করা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের জন্য স্বাভাবিক বা শোভন কাজ নয়। তাই ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও তার ফেরার ক্ষেত্রে কোনো বাধার সৃষ্টি হওয়ার যৌক্তিক কারণ নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। উপদেষ্টার মতে, বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ তারেক রহমানের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই ইতিবাচক ও নমনীয় মনোভাব দেশের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বিশেষ বার্তা বহন করে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, বর্তমান প্রশাসন রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরা এবং তাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পথ সুগম করতে আগ্রহী।
সেমিনারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কেবল তারেক রহমানের প্রসঙ্গই নয়, বরং বর্তমান জটিল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।