সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিডিআর বিদ্রোহে আ.লীগের সংশ্লিষ্টতা ও তাপস ‘প্রধান সমন্বয়ক’, তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:০৩ পিএম

বিডিআর বিদ্রোহে আ.লীগের সংশ্লিষ্টতা ও তাপস ‘প্রধান সমন্বয়ক’, তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি: Collected

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাযজ্ঞের দীর্ঘ ১৬ বছর পর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে উঠে এসেছে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সব অভিযোগ। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) এএলএম ফজলুর রহমান।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল এবং সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস এই ঘটনার ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই বিদ্রোহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত আক্রমণ।

 

কমিশনের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার জানান, ঘটনার পেছনে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ ইন্ধনের ‘শক্তপোক্ত প্রমাণ’ পাওয়া গেছে। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, তদন্ত কমিশন মনে করে এই ঘটনার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথাকথিত ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা মৌন সম্মতি ছিল।

 

দায়ভার কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপরই সীমিত থাকেনি; তৎকালীন সেনাপ্রধান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ‘চরম ব্যর্থতা’র বিষয়টিও প্রতিবেদনে কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে কমিশন প্রধান জানান, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় ঘটনার অনেক আলামত নষ্ট হয়ে গেছে এবং অভিযুক্ত অনেকেই দেশত্যাগ করেছেন। তবুও কমিশন পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করেছে।

 

তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের দীর্ঘ জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে কয়েকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ আট ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তদন্তে দেখা গেছে, বিদ্রোহের সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা ২০-২৫ জনের একটি দল নিয়ে পিলখানায় প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যায়, যা অপরাধীদের রক্ষা করার একটি স্পষ্ট প্রয়াস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

এছাড়া, ঘটনার সময় দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কিছু অংশের ভূমিকাকে ‘অপেশাদার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জাতি দীর্ঘদিন ধরে এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অন্ধকারে ছিল।

 

এই প্রতিবেদনটি জাতির জন্য একটি অমূল্য সম্পদ এবং এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। প্রতিবেদনে দোষীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।