মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তারেক রহমানের নিরাপত্তার জন্য যেকোনো ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। উপদেষ্টার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে নানামুখী আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে কারও জন্যই কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে তারেক রহমানের প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যদি কারও জন্য বিশেষায়িত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়, তবে সরকার তা প্রদানে কোনো কার্পণ্য করবে না।
তিনি বলেন, "আমরা সবার জন্যই প্রস্তুত। বিশেষ করে যাদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন, তাদের সেই প্রয়োজনীয়তা মেটাতে আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।" তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেন যে, কোর কমিটির মঙ্গলবারের বৈঠকে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময় বা প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত এই কোর কমিটির বৈঠকে কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নয়, বরং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যদিও এই তালিকা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তনশীল, তবুও আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ মোতায়েন নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাদকের অপব্যবহার রোধ এবং দেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়। উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা ইস্যুটি যেমন রাজনৈতিক মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার বিষয়ে সরকারের এই কঠোর ও সতর্ক অবস্থান জনমনে স্বস্তি ফেরাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তা প্রমাণ করে যে, তারা কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নয়, বরং দল-মত নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে চায়।