রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, ভিভিআইপি মর্যাদা ও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, ভিভিআইপি মর্যাদা ও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ
ছবি: Collected

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এক যুগান্তকারী ও মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি (VVIP) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুচিকিৎসা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে সরকারের কঠোর ও সহানুভূতিশীল অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ গণমাধ্যমের সামনে সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাঠ করেন।

 

তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার চিকিৎসার পথে যেন কোনো ধরনের প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা বা আইনি জটিলতা বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের হাসপাতালে তার বর্তমান চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করার পাশাপাশি, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

 

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে যাওয়া সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার বিষয়ে এটি সরকারের একটি বড় পদক্ষেপ। বেগম জিয়ার নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধার্থে তাকে ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মর্যাদার ফলে তিনি এখন থেকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

 

একজন সাবেক সরকারপ্রধান এবং দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় বর্তমান প্রশাসন যে অত্যন্ত আন্তরিক, এই পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন। পরিকল্পনা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বেগম জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে কোনো প্রকার অবহেলা বা বিলম্ব সরকার মেনে নেবে না। যদিও ব্রিফিংকালে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি, তবে তার পঠিত বিবৃতিতে সরকারের অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং দ্ব্যর্থহীন।

 

এদিনের বৈঠকে কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি, বরং রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্তও স্থাপন করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে বৈঠকে বিশেষ মোনাজাত করেন। সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতিও উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়, যেন দল-মত নির্বিশেষে সবাই এই প্রবীণ নেত্রীর দ্রুত সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার এক নতুন বার্তা বহন করছে এবং প্রমাণ করছে যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মর্যাদাকেই এই সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।