বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ২৭টি সিভিল সোসাইটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি)’-এর ‘নাগরিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসি সানাউল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন কোনো একক সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়; বরং এর জন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ও আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থার ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনার মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় দেশের নির্বাচন কাঠামো অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল।
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে যে গণতান্ত্রিক ঘাটতি, আস্থার তীব্র সংকট এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা সেই ক্ষত সারিয়ে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধারাবাহিকভাবে একটি ইতিবাচক, শক্তিশালী ও স্বচ্ছ ধারায় ফিরিয়ে আনার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পর্যবেক্ষকদের জন্যও মাঠ পর্যায়ে কাজ করা নানাভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবুও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ ভোটারের আস্থা অর্জনে তাদের নিরপেক্ষ ও নির্মোহ পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার সঙ্গে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের যৌক্তিক দাবি-দাওয়ার মধ্যে একটি সুষম সমন্বয় সাধন করা এখন সময়ের দাবি। পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহের দেয়াল ভেঙে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।