বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে ‘সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি’ (পিসিএ), আসন্ন নির্বাচন, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। পাওলা পাম্পালোনি জানান, পিসিএ চুক্তির আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা দুই পক্ষের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। গত ১৭ মাসে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার যে ‘অসাধারণ ও ব্যাপক’ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন ইইউ প্রতিনিধি।
আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ড. ইউনূস বলেন, “গত ১৬ বছরের স্বৈরশাসনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে।” নির্বাচন পর্যবেক্ষণকে ইইউ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে পাম্পালোনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি উচ্চপর্যায়ের বড় মিশন পাঠাবে। মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই ঢাকা এসে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাই তিনি বিশ্বাস করেন, দলগুলো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই প্রচার চালাবে এবং কেউ এর বিরোধিতা করবে না। সফল নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটলে ইইউ-র সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।