শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে চীনা নাগরিকদের গোপন আইফোন কারখানায় ডিবির হানা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

রাজধানীতে চীনা নাগরিকদের গোপন আইফোন কারখানায় ডিবির হানা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বুকে বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি অবৈধ আইফোন সংযোজন কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে প্রশাসনের চোখের আড়ালে কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ এনে অভিনব কায়দায় আইফোন তৈরি এবং তা আসল বলে বাজারে বিক্রি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

 

এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা দুই চীনা নাগরিকসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এই গোপন কারখানার খোঁজ পায় ডিবি পুলিশ। অভিযানে উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর এবং নিকুঞ্জ-১ এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আইফোন, ফোনের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত আধুনিক মেশিনারি জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ৩৬৩টি বিভিন্ন মডেলের আইফোন ও বিদেশি মদও রয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। চক্রটি মূলত বিদেশ থেকে আইফোনের বিভিন্ন পার্টস বা যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে আমদানি করত, যাতে বড় অঙ্কের শুল্ক ফাঁকি দেওয়া যায়। এরপর ঢাকার গোপন ল্যাবে অত্যন্ত দক্ষহাতে সেই যন্ত্রাংশগুলো সংযোজন করে হুবহু নতুনের মতো আইফোন তৈরি করা হতো।

 

সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে আসল ও নকলের পার্থক্য বোঝা ছিল প্রায় অসম্ভব। গত দেড় বছর ধরে এই চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও অনলাইনে এসব ফোন ‘অরিজিনাল’ বলে বিক্রি করে আসছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই দীর্ঘ সময়ে তারা বিপুল পরিমাণ ফোন বাজারে ছেড়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি করেছে। ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৭ জানুয়ারি এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন চীনা নাগরিক রয়েছেন, যারা মূলত এই কারখানার কারিগরি ও পরিচালনা দিকটি দেখভাল করতেন। তাদের সাথে এই জালিয়াতিতে আর কে বা কারা জড়িত, বিশেষ করে কোনো বাংলাদেশি প্রভাবশালী চক্রের হাত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এখনই স্থানীয় সহযোগীদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ ক্রেতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

বিশেষ করে বাজারদরের চেয়ে কম দামে ‘অরিজিনাল আইফোন’ পাওয়ার প্রলোভনে না পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের মতে, অনুমোদিত শোরুম বা বিশ্বস্ত উৎস ছাড়া দামী মোবাইল ফোন কেনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।