প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা জানান, ঢালাওভাবে অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে সরকার। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যদি মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের কাজে কোনো বিচ্যুতি দেখতে পাই, তবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু ঢালাওভাবে কাউকে দোষারোপ করা সমীচীন নয়। আমরা মনে করি, তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং যোগ্য।”
তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কোথাও যদি বাস্তবিকভাবে সমস্যা সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায়, তবে প্রশাসন কালক্ষেপণ না করে বিষয়টি আমলে নেবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে বা কাছাকাছি সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন জেলা প্রশাসকদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও সুশীল সমাজে প্রশ্ন উঠেছে। তুলনামূলক নবীন এই প্রশাসন দিয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিজের আশাবাদের কথা শোনান।
তিনি বলেন, “আমি এখনো আশাবাদী যে, এই প্রশাসন দিয়েই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব, ইনশাআল্লাহ্।” অভিজ্ঞতার ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি একটি বাস্তবসম্মত ও পেশাদার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। ড. রশীদের মতে, সবাই অভিজ্ঞতা নিয়ে চাকরিতে আসেন না, বরং পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। তিনি বলেন, “অভিজ্ঞতা তো তৈরি হয়, কেউ জন্মগতভাবে তা নিয়ে আসে না। যখন কেউ কোনো পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন, তখনই তার অভিজ্ঞতা বাড়ে।”
তিনি বিশ্বাস করেন, কর্মকর্তাদের মনোভাব যদি সঠিক থাকে এবং তারা যদি সঠিক পথে চলার সৎ সাহস রাখেন, তবে তারা শতভাগ সফল হবেন। তার মতে, নির্বাচনের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় সদিচ্ছাই মূল চাবিকাঠি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকায় থাকা জেলা প্রশাসকদের কার্যক্রম নিয়ে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে দেশবাসী। তার এই দৃঢ় অবস্থান এবং আশাবাদ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার যে একটি প্রশ্নহীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধপরিকর, সচিবের কথায় সেই ইঙ্গিতই ফুটে উঠেছে।