নিহত লিলি স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত কাজে লিলির বাবা-মা গত বুধবার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাসায় লিলি ও তার বড় বোন শোভা থাকতেন। শনিবার দুপুরে শোভা জিমে যাওয়ার সময় লিলি ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিয়েছিল।
কিন্তু জিম থেকে ফিরে শোভা দেখেন, গেট লাগানো থাকলেও ফ্ল্যাটের দরজা খোলা এবং ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তিনি ঘরের ভেতর একটি বড় পাতিলের নিচে বোনের নিথর দেহ কুণ্ডলী পাকানো অবস্থায় দেখতে পান। তিনি জানান, লিলির গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল এবং বঁটি দিয়ে গলা কাটা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের সন্দেহ তাদের পারিবারিক হোটেলের কর্মচারী মিলনের দিকে। বড় বোন শোভা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে খাবার নেওয়াকে কেন্দ্র করে মিলনের সঙ্গে লিলির কথাকাটাকাটি হয়েছিল। ঘটনার দিন দুপুরেও মিলন বাসায় খাবার নিতে এসেছিল। শোভার অভিযোগ, মিলনই এই নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ফরাজী হাসপাতাল থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। দিনের আলোতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।