সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, কোনো বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৫৫ পিএম

শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, কোনো বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি: Collected

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা অস্থিরতা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী শনিবার (আজ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানিয়েছেন, রায়কে ঘিরে দেশে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল বা অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে তাদের সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আগামী সোমবার, ১৭ই নভেম্বর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। শনিবার পটুয়াখালী সার্কিট হাউসে এক দাপ্তরিক সফরকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই প্রস্তুতির কথা জানান।

 

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "আগামী ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষিত হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়, সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে।"

 

এই মামলাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করেছে।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও এই মামলার অপর প্রধান আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মামলার তৃতীয় আসামি, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, এই মামলায় 'রাজসাক্ষী' (অ্যাপ্রুভার) হয়েছেন এবং তিনি দোষ স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি দিয়েছেন, যা এই মামলার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

গত ২৩শে অক্টোবর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষ, অর্থাৎ চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী তাদের নির্দোষ দাবি করে বেকসুর খালাস চেয়েছেন।

 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে, যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশেই, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।