বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান দলের চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। তিনি বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে জানান, মেডিকেল বোর্ড সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের প্রতিটি দিক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে প্রয়োজনীয় ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
অধ্যাপক জাহিদ হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, "চেয়ারপারসন অসুস্থ অবস্থায় দেশবাসীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন। তিনি সকলের কাছে খাস দিলে দোয়া চেয়েছেন এবং তার চিকিৎসার জন্য নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার ওপর আস্থা রেখেছেন।"
এর আগে, গত রোববার রাতে হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকেই তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিকেল বোর্ড তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৭৯ বছর বয়সী দেশের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, লিভারের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভুগছেন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেখানে বিশেষায়িত হাসপাতালে দীর্ঘ ১১৭ দিন চিকিৎসা গ্রহণ শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে তিনি গুলশানের বাসভবন 'ফিরোজা'য় অবস্থান করছিলেন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে যাতায়াত করছিলেন। তবে এবারের শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হচ্ছে। তার অসুস্থতার খবরে দেশজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।