৪৫ কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ড্যান্ডি ডায়িং লিমিটেডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই মামলাটি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মামলাটি মূলত জিয়া পরিবারের মালিকানাধীন বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্যান্ডি ডায়িং লিমিটেডের ব্যাংক ঋণের বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মোস্তাক আহমেদ। তিনি জানান, সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অর্থঋণ আদালত-১ গত ১১ নভেম্বর মামলাটি প্রত্যাহারের আদেশ প্রদান করে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই দীর্ঘমেয়াদী বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের প্যানেল আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন স্পষ্ট করেছেন যে, বিবাদী পক্ষ ঋণের সমুদয় বকেয়া অর্থ পরিশোধ করায় ব্যাংক আর মামলাটি চালিয়ে নিতে আগ্রহী নয়। পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত হওয়ার পরেই তারা আদালতের কাছে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন দাখিল করেছিলেন এবং বিজ্ঞ আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
মামলার নথিপত্র ও পেছনের ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ঋণ খেলাপের অভিযোগে ঢাকার অর্থঋণ আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার শুরুতে অন্যতম প্রধান বিবাদী ছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।
পরবর্তীতে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালের ৮ মার্চ তার উত্তরাধিকারীদের বিবাদী করার আবেদন জানায়। ইসলামী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কোকোর মা বেগম খালেদা জিয়া, স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই কন্যা জাফিয়া ও জাহিয়াকে এই মামলার বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আদালত ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ ব্যাংকের সেই আবেদন মঞ্জুর করে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান-সহ মোট ১৬ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে ইস্যু গঠন করে। এই মামলায় ড্যান্ডি ডায়িং লিমিটেড ছাড়াও বিবাদীর তালিকায় ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, তার স্ত্রী শাহিনা ইয়াসমিন, শামীম এস্কান্দার, সাফিন এস্কান্দার, সুমাইয়া এস্কান্দার, বেগম নাসরিন আহমেদ, কাজী গালিব আহমেদ, শামসুন নাহার এবং মাসুদ হাসান।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় অবশেষে ঋণের অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে একটি সম্মানজনক ও আইনি পরিসমাপ্তি ঘটল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান-সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই এই ঋণ খেলাপি মামলার দায় থেকে মুক্তি পেলেন।