সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব প্লাস্টিক দূষণ রোধে চূড়ান্ত চুক্তি, জেনিভায় চলছে রুদ্ধদ্বার বৈঠক!

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:৩০ এএম

বিশ্ব প্লাস্টিক দূষণ রোধে চূড়ান্ত চুক্তি, জেনিভায় চলছে রুদ্ধদ্বার বৈঠক!
ছবি : AP

পৃথিবীর প্রতিটি বাস্তুতন্ত্র ও মানব জীবনকে প্রভাবিত করা ভয়াবহ প্লাস্টিক দূষণ সংকট মোকাবিলায় একটি যুগান্তকারী চুক্তি সম্পন্ন করার চূড়ান্ত প্রচেষ্টায় আজ জেনিভায় একত্রিত হয়েছে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। এটি এই বিষয়ে ষষ্ঠ বৈঠক এবং আলোচকরা আশা করছেন এটিই শেষ বৈঠক হতে চলেছে।

এবারের আলোচনার মূল বিভাজন হলো, চুক্তিতে প্লাস্টিক উৎপাদন কমানোর বাধ্যবাধকতা থাকবে কি না। কারণ, বেশিরভাগ প্লাস্টিক জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে তৈরি হয়। তাই কিছু শক্তিশালী তেল উৎপাদনকারী দেশ এর বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, প্লাস্টিকের ডিজাইন পরিবর্তন, পুনর্ব্যবহার এবং পুনরায় ব্যবহারই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। কিন্তু অন্যান্য দেশ এবং কিছু বড় সংস্থা মনে করে, শুধু এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।

 

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন বলেছেন, যদিও বিষয়গুলো জটিল, তবে এই সংকট দ্রুত বাড়ছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ খুবই সংকীর্ণ। তিনি আরও বলেন, অনেক দেশই প্লাস্টিকের পণ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্যভাবে নতুন করে ডিজাইন করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতির বিষয়ে একমত।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৯ থেকে ২৩ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য জলজ বাস্তুতন্ত্রে প্রবেশ করে। জরুরি পদক্ষেপ না নিলে ২০৪০ সালের মধ্যে এই পরিমাণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

২০২২ সালের মার্চ মাসে, ১৭৫টি দেশ ২০২৪ সালের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ সংক্রান্ত একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এই চুক্তিতে প্লাস্টিকের উৎপাদন, ডিজাইন এবং নিষ্পত্তি সহ তার সম্পূর্ণ জীবনচক্রের ওপর নজর দেওয়ার কথা ছিল।

গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত আলোচনা প্লাস্টিক উৎপাদন কমানোর বিষয়ে মতবিরোধের কারণে কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। বিশ্বে প্রতি বছর ৪০০ মিলিয়ন টনের বেশি নতুন প্লাস্টিক তৈরি হয়, যা নীতি পরিবর্তন ছাড়া ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়তে পারে।

 

পানামাসহ প্রায় ১০০টি দেশ বর্জ্য পরিষ্কার এবং পুনর্ব্যবহারের পাশাপাশি প্লাস্টিক উৎপাদন সীমিত করার পক্ষে। তারা মনে করে দূষণ রোধে বিষাক্ত রাসায়নিক নিয়েও আলোচনা জরুরি।

অন্যদিকে, গ্রিনপিস জেনেভায় ২০৪০ সালের মধ্যে প্লাস্টিক উৎপাদন কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ কমানোর জন্য আবেদন জানাচ্ছে।

 

এই ১০ দিনের বৈঠকে সরকার, প্লাস্টিক শিল্প, পরিবেশবাদী, বিজ্ঞানী এবং প্লাস্টিক দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের প্রায় ৮০ জন মন্ত্রী ও প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। আগামী ১৪ আগস্ট এই বৈঠক শেষ হবে বলে জানা গেছে।

 

- Africa News