কেনিয়ার অত্যন্ত শুষ্ক উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত কাকুমা শিবিরের WFP-র খাদ্যগুদামগুলোতে এখন হাহাকার। গুদামের মজুত ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে, পড়ে আছে শুধু শেষ সম্বল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কয়েকটি ডালের বস্তা। WFP-র সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্র গত ফেব্রুয়ারিতে অর্থায়ন বন্ধ করার পর থেকে এখানে আর নতুন কোনো খাদ্য পৌঁছায়নি। খাদ্যের অভাবে WFP রেশন মারাত্মকভাবে কমাতে বাধ্য হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী আগস্ট মাস থেকে শিবিরের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শরণার্থী, অর্থাৎ এক লক্ষেরও বেশি মানুষ, কোনো খাদ্যই পাবে না।
এই সংকটের ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে দক্ষিণ সুদান থেকে পালিয়ে আসা রেজিনা গোলের কথায়। সাত সদস্যের পরিবারের জন্য তাঁর আজকের সম্বল কেবল জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা সামান্য কিছু পাতা। জুন ও জুলাই মাসের জন্য পাওয়া চাল, তেল ও ডাল অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।তাঁর দুই বছরের শিশুটি তীব্র অপুষ্টির কারণে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রেজিনার মতো হাজারো মায়ের গল্প এখন কাকুমা শিবিরের নিত্যদিনের বাস্তবতা। শিবিরে কিছু শরণার্থী ছোটখাটো ব্যবসা বা কাজ খুঁজে পেলেও, সিংহভাগই বেঁচে থাকার জন্য পুরোপুরি এই রেশনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাবে কীভাবে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী মৃত্যুর মুখে পতিত হতে পারে, কাকুমা শিবিরের এই চিত্র তারই এক করুণ প্রতিচ্ছবি। জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা না পৌঁছালে এই শিবির এক অচিন্তনীয় মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে চলেছে।
---