এনদিয়ায়ে এই সংকটকে দুটি প্রধান দিক থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথমটি হলো "খাকি বিপদ" বা সামরিকতন্ত্রের উত্থান। ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আফ্রিকায়, বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে, নয়টি সফল সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। মালি, নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর মতো দেশগুলোতে সামরিক শাসকরা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করছেন। তবে লেখকের মতে, সংকটের দ্বিতীয় এবং আরও জটিল দিকটি হলো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা। তিনি তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, "তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েও 'সিস্টেম-বিরোধী' হওয়ার নামে গণতন্ত্রকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।"
এনদিয়ায়ে তার বইতে এই ধারণাটিকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, গণতন্ত্র একটি পশ্চিমা বা ঔপনিবেশিক ধারণা। তিনি যুক্তি দেন, "ঔপনিবেশিক শাসনের আগে আফ্রিকার বহু অঞ্চলে নিজস্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, যা সাম্য ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।" তার মতে, ঔপনিবেশিক শাসন এই ব্যবস্থাগুলোকে ধ্বংস করে দেয় এবং পরবর্তীতে উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া 'গণতান্ত্রিকীকরণের' প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে।
এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী? এনদিয়ায়ে মনে করেন, আফ্রিকার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আসল শক্তি। তিনি বলেন, শত বাধা-বিপত্তি, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন এবং প্রচারণার মুখেও "স্বাধীনতা ও সমতার জন্য সাধারণ নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই" আফ্রিকার গণতন্ত্রকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। তার মতে, গণতন্ত্রকে কোনো বহিরাগত ধারণা হিসেবে না দেখে, এর সার্বজনীন ও আফ্রিকান সত্তাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
---