শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণতন্ত্র কি আফ্রিকায় বহিরাগত? সামরিকতন্ত্র ও নেতাদের গণতন্ত্র-বিরোধিতায় উদ্বেগ

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৫, ০১:০৭ এএম

গণতন্ত্র কি আফ্রিকায় বহিরাগত? সামরিকতন্ত্র ও নেতাদের গণতন্ত্র-বিরোধিতায় উদ্বেগ
ফাইল ছবি

সামরিক অভ্যুত্থান, নির্বাচন এবং কর্তৃত্ববাদী নেতাদের উত্থানের মধ্য দিয়ে আফ্রিকার গণতন্ত্র এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। এই মহাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কোন পথে, তা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ  তুলে ধরেছেন সেনেগালের প্রখ্যাত সাংবাদিক উসমান এনদিয়ায়ে তার নতুন বই ‘আফ্রিকা অ্যাগেইনস্ট ডেমোক্রেসি: মিথস, ডিনায়াল, ডেঞ্জারস’-এ। চলতি মাসের ১০ তারিখে ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত এই বইটিতে এনদিয়ায়ে যুক্তি দিয়েছেন, আফ্রিকার গণতন্ত্রের সংকট কেবল সামরিক জান্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু দেশের রাজনৈতিক নেতারাও এখন খোলামেলাভাবে গণতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করছেন এবং এটিকে একটি "পশ্চিমা ধারণা" হিসেবে চিহ্নিত করে নিজেদের শাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

 

এনদিয়ায়ে এই সংকটকে দুটি প্রধান দিক থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথমটি হলো "খাকি বিপদ" বা সামরিকতন্ত্রের উত্থান। ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আফ্রিকায়, বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে, নয়টি সফল সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। মালি, নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর মতো দেশগুলোতে সামরিক শাসকরা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করছেন। তবে লেখকের মতে, সংকটের দ্বিতীয় এবং আরও জটিল দিকটি হলো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা। তিনি তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, "তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েও 'সিস্টেম-বিরোধী' হওয়ার নামে গণতন্ত্রকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।"

 

এনদিয়ায়ে তার বইতে এই ধারণাটিকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, গণতন্ত্র একটি পশ্চিমা বা ঔপনিবেশিক ধারণা। তিনি যুক্তি দেন, "ঔপনিবেশিক শাসনের আগে আফ্রিকার বহু অঞ্চলে নিজস্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, যা সাম্য ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।" তার মতে, ঔপনিবেশিক শাসন এই ব্যবস্থাগুলোকে ধ্বংস করে দেয় এবং পরবর্তীতে উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া 'গণতান্ত্রিকীকরণের' প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে।

 

এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী? এনদিয়ায়ে মনে করেন, আফ্রিকার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আসল শক্তি। তিনি বলেন, শত বাধা-বিপত্তি, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন এবং প্রচারণার মুখেও "স্বাধীনতা ও সমতার জন্য সাধারণ নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই" আফ্রিকার গণতন্ত্রকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। তার মতে, গণতন্ত্রকে কোনো বহিরাগত ধারণা হিসেবে না দেখে, এর সার্বজনীন ও আফ্রিকান সত্তাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

 

---

আফ্রিকানিউজ