শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রাণহানির কথা স্বীকার করলেন সামরিক প্রধান গোইতা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩৭ এএম

প্রাণহানির কথা স্বীকার করলেন সামরিক প্রধান গোইতা
ছবি: AP

মালির সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল আসিসিমি গোইতা সোমবার দেশটির ভয়াবহ জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মুখ খুললেন। আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট একটি জিহাদি গোষ্ঠীর অবরোধের কারণে স্থলবেষ্টিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

 

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি লিথিয়াম খনি উদ্বোধনের পর বুগৌনি অঞ্চলের ভ্লাস্টেই সঙ্গে এক বৈঠকে জেনারেল গোইতা সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "জ্বালানি ট্যাংকারের গাড়িবহর পাহারা দিয়ে নিয়ে আসার সময় মানুষ মারা যাচ্ছে; রাস্তায় অতর্কিত হামলা হচ্ছে এবং ট্যাংকারগুলিতে আগুন ধরে যাচ্ছে, ভেতরে থাকা মানুষজন জ্যান্ত দগ্ধ হচ্ছেন।"

 

আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট 'জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন' (জেএনআইএম) এই অবরোধ আরোপ করেছে। চলতি বছরের শুরুতে মালির কর্তৃপক্ষ জিহাদিদের গোপন আস্তানাগুলিতে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর প্রতিশোধ হিসেবেই জেএনআইএম গোষ্ঠীটি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে মালিতে জ্বালানি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এখন পর্যন্ত মালির কর্তৃপক্ষ এই অবরোধের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে সংযম দেখিয়েছে।

 

এই অবরোধ মালির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করেছে এবং সীমান্তে শত শত জ্বালানি ট্রাক আটকা পড়েছে। মালির সামরিক বাহিনী সীমান্ত এলাকা থেকে রাজধানী বামাকোতে জ্বালানি নিয়ে আসার চেষ্টা করছে, একইসাথে জেএনআইএম-এর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালাচ্ছে। কিছু ট্রাক রাজধানীতে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও, জঙ্গিরা অন্যগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে।

 

পরিস্থিতির গুরুতর বিবেচনায়, জেনারেল গোইতা তার ভাষণে মালির নাগরিকদের জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব কমাতে ভ্রমণ সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানী বামাকোর জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে অন্তহীন সারি দেখা গেছে, অনেক বাসিন্দা জ্বালানির আশায় রাতভর অপেক্ষা করছেন। সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে, বিভিন্ন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং দেশজুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

 

প্রতিবেশী সেনেগাল এবং আইভরি কোস্ট থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল মালির সামরিক জান্তার জন্য এই অবরোধ একটি বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। জেএনআইএম সাহেল অঞ্চলে সক্রিয় থাকা বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম, যেখানে সশস্ত্র বিদ্রোহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং বড় আকারের হামলা চালাচ্ছে।

 

- Africa News