মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অ্যাঙ্গোলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, উদযাপনের মাঝেও সামাজিক বৈষম্য প্রকট

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:২৯ পিএম

অ্যাঙ্গোলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, উদযাপনের মাঝেও সামাজিক বৈষম্য প্রকট
ছবি: AP

পর্তুগিজ উপনিবেশ থেকে রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী বা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছে অ্যাঙ্গোলা। ১৯৭৫ সালের ১১ নভেম্বর, দীর্ঘ ১৩ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দেশটি স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। তবে এই ঐতিহাসিক অর্জন এক নাটকীয় ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এসেছিল; স্বাধীনতার পরপরই দেশটির প্রধান দুই জাতীয়তাবাদী শক্তি, অ্যাঙ্গোলার মুক্তির জন্য গণআন্দোলন (এমপিএলএ) এবং অ্যাঙ্গোলার সম্পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য জাতীয় ইউনিয়ন (ইউনিটা), প্রায় তিন দশকের এক বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

 

এই মঙ্গলবার সেই ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এ উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে দেশজুড়ে। কিন্তু এই উদযাপনের আড়ালে অ্যাঙ্গোলার বহু সাধারণ মানুষ এখনও তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পর, বিশেষ করে রাজধানী লুয়ান্ডায় অবকাঠামো এবং নগর উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে অ্যাঙ্গোলা এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

 

বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার (দৈনিক ২.১৫ ডলার) নিচে বাস করত। একই তথ্য অনুসারে, দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ মানুষ (৫২.৯%), নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত দারিদ্র্যসীমা বা দৈনিক ৩.৬৫ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।

 

এই কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায় রাজধানী লুয়ান্ডার কিকোলো বাজারের এক বিক্রেতা অ্যাডেলিনার কথায়। তিনি বলেন, "আমার জীবন খুব কঠিন। আমি ঠিকমতো অর্থ উপার্জন করতে পারি না বা ভালো পোশাক কিনতে পারি না, কিন্তু যা আমাদের সত্যিই নিঃশেষ করে দিচ্ছে তা হলো ক্ষুধা।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের থাকার কোনো স্থায়ী জায়গা নেই, আমাদের কোনো বেতন নেই, আমাদের কোনো স্বামী নেই।"

 

এই সংকট তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষভাবে তীব্র। বিশ্বব্যাংকের ২০২৪ সালের তথ্যমতে, অ্যাঙ্গোলার মোট শ্রমশক্তির মধ্যে বেকারত্বের হার ১৪.৫% হলেও, তরুণদের মধ্যে এই হার উদ্বেগজনকভাবে ২৭.৯%। যদিও এই হার গত ১৫ বছরে (২০২০ সালের ব্যতিক্রম বাদে) ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, তবুও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। লুয়ান্ডার বাসিন্দা ড্যানিয়েল নামে এক তরুণ বলেন, "আমরা চাই তরুণদের কর্মসংস্থান হোক। আমরা আরও চাই সমাজ তরুণদের আরও বেশি সমর্থন দিক, কারণ তরুণদের মাধ্যমেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।"

 

- Africa News