রবিবার সকাল থেকেই রাজধানী বিসাউসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। প্রেসিডেন্ট এমবালো ছাড়াও এই নির্বাচনে আরও ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মূল লড়াইটি হবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ ফার্নান্দো ডায়াসের মধ্যে।
ফার্নান্দো ডায়াস দেশটির প্রধান বিরোধী দল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী দল ‘আফ্রিকান পার্টি ফর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্স অফ গিনি অ্যান্ড কেপ ভার্দে’ (PAIGC)-এর সমর্থনপুষ্ট। মূলত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে কর্তৃপক্ষ PAIGC এবং দলটির নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডোমিঙ্গোস সিময়েস পেরেইরাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করে।
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে প্রধান বিরোধী দল সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও তারা ডায়াসকে সমর্থন দিয়ে রাজনৈতিক মাঠে তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। নির্বাচনী প্রচারণায় দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিন্ন ভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছেন। ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসা সাবেক সেনাপ্রধান এমবালো নিজেকে স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হলে তিনি দেশে আরও সড়ক নির্মাণ করবেন এবং সাধারণ মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন। তার সমর্থনে রয়েছে ২০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের একটি শক্তিশালী জোট। অন্যদিকে, ফার্নান্দো ডায়াস মৌলিক পরিষেবাগুলোর মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তার প্রচারণার মূল সুর হলো জাতীয় পুনর্মিলন এবং রাজনীতি থেকে সেনাবাহিনীকে দূরে রাখা।
গিনি-বিসাউয়ের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা ডায়াসের এই প্রতিশ্রুতিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এমবালো এবং ডায়াসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। নির্বাচনে সরাসরি বিজয়ী হতে হলে যেকোনো প্রার্থীকে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হবে। গিনি-বিসাউয়ের রাজনৈতিক ইতিহাস ক্যু বা সামরিক অভ্যুত্থান এবং অস্থিরতায় পূর্ণ।
গত তিন দশকে কোনো নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দেশটিতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি। যদি এমবালো এই নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তবে তিনি দীর্ঘ ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। তবে প্রধান বিরোধী দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা এবং সামরিক উপদলগুলোর মধ্যেকার পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি করেছে।
দেশটির প্রায় ৯ লাখ নিবন্ধিত ভোটার এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। তারা শুধুমাত্র পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানকেই নির্বাচিত করবেন না, একই সঙ্গে ‘ন্যাশনাল পিপলস অ্যাসেম্বলি’ বা জাতীয় সংসদের ১০২ জন সদস্যকেও নির্বাচিত করবেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং পশ্চিম আফ্রিকার রাজনীতি সচেতন মহল গিনি-বিসাউয়ের এই নির্বাচনের দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে, কারণ এই নির্বাচনের ফলাফল অত্র অঞ্চলের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।