তিনি জানান, আগামী ৯ ডিসেম্বর স্বাধীনতা দিবসের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা এখন গত মাসের নির্বাচনী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা হবে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে দেশটির চরম অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
বিরোধী দল এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা দিবসের দিনটিতেই সমবেত হয়ে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত 'গণহত্যাকাণ্ডের' প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর তানজানিয়ায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন বর্তমান প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানকে ৯৮ শতাংশ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করে। তবে বিরোধী দলগুলো এই ফলাফলকে "সম্পূর্ণ বানোয়াট", "অবাস্তব" এবং "কৃত্রিম" বলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ ভোটের আগেই প্রেসিডেন্ট হাসানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের হয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে, নতুবা অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল 'চাদেমা'-র শীর্ষ নেতা টুন্ডু লিসু গত এপ্রিল মাস থেকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কারাবন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে, অপর বিরোধী দল ‘এসিটি-ওয়াজালেন্দো’-র প্রার্থী লুহাগা এমপিইনার প্রার্থিতা খুব সামান্য কারিগরি অজুহাতে বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল।
ফলে কার্যত কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই একতরফাভাবে নির্বাচনটি সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলের বিরুদ্ধে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এলে তানজানিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে সেই বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের এই পদক্ষেপকে "চরম সহিংস" এবং "নিপীড়নমূলক" বলে অভিহিত করেছে।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ও দমন অভিযানে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও সরকার এখনো নিহতের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ঘটনা তদন্তে সরকার একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছে, তবে বিরোধী দলগুলো এই কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এমন বিস্ফোরক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী এনচেমবা সোমবার দেশবাসীকে সহিংসতা পরিহার করে রাজনৈতিক সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আমি আমার সহনাগরিকদের আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন আমরা একত্রিত হই এবং আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করি। আমরা যেন অতীতের সেই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ফিরে না যাই, কারণ এর ফলাফল অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।" সরকারের এই অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ ক্ষুব্ধ জনতাকে কতটা শান্ত করতে পারবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।