আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই প্রচেষ্টাকে তিনি কঙ্গোর সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। সপ্তাহান্তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ড. মুকওয়েগে অভিযোগ করেন যে, এই কথিত শান্তি চুক্তির আড়ালে বিদেশি শক্তিগুলোর "লুণ্ঠনমূলক মানসিকতা" কাজ করছে। তাঁর মতে, মধ্যস্থতাকারীদের মূল লক্ষ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা নয়, বরং অঞ্চলের বিশাল খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি দাবি করেন, এই চুক্তি সংঘাতের মূল কারণ এবং আঞ্চলিক সমীকরণগুলোকে উপেক্ষা করে কেবল বিদেশি ভূ-কৌশলগত স্বার্থ হাসিলের পথ প্রশস্ত করছে। মুকওয়েগে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশের ভুক্তভোগী জনসাধারণকে এই আলোচনা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ রাখা হয়েছে, যার ফলে তারা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এই নোবেলজয়ী। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো স্পষ্ট সময়সীমা বা নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি নেই। চুক্তির শর্তে কঠোরতার অভাব থাকলে তা বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ তৈরি করবে এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে।
টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে যেকোনো আলোচনায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করার এবং বিদেশি অর্থনৈতিক স্বার্থের চেয়ে স্থানীয়দের মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে, ড. মুকওয়েগের এই বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে ডিআরসির বিরোধী দলীয় নেতারাও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন।
তাঁরা প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তিসেকেদির কাছে দাবি জানিয়েছেন, যেন চুক্তিতে সই করার আগেই এর বিস্তারিত বিষয়বস্তু জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। বিরোধী নেতারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এমন কোনো শর্ত মেনে নেওয়া যাবে না যা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে যৌন সহিংসতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই এবং অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে ড. ডেনিস মুকওয়েগে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর এই বর্তমান অবস্থান কঙ্গোর রাজনীতিতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।