গত ২৪ অক্টোবর নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও সরকারি দমনপীড়নের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে নারাজ তার দল ও অনুসারীরা; বরং একে রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও পরোক্ষ হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখছেন তারা। একানের মৃত্যুর পেছনে পুলিশি নিষ্ঠুরতা ও চরম মানবিক অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
তার রাজনৈতিক দল ‘আফ্রিকান মুভমেন্ট ফর নিউ ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (ম্যানিডেম) জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ একানের ব্যক্তিগত গাড়িটি জব্দ করে, যার ভেতরে ছিল তার জীবনরক্ষাকারী অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর। শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ভোগা এই নেতার জন্য যন্ত্রটি ছিল অপরিহার্য। গত ২১ নভেম্বর দলটি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছিল, চিকিৎসা সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা একানের স্বাস্থ্যের জন্য ‘মারাত্মক বিপদ’ ডেকে আনতে পারে।
দলের সেই আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্য হলো। চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে কারাগারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হলো দেশটির অন্যতম প্রধান এই বিরোধী কণ্ঠস্বরকে। ক্যামেরুনের সাম্প্রতিক বিতর্কিত নির্বাচন ও পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থার বলি হলেন একানে। তিনি বিরোধী দলীয় প্রার্থী ইসা চিরোমার কট্টর সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনের পর চিরোমা নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলে সরকার সেটিকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে।
এর পরপরই দেশজুড়ে শুরু হয় নজিরবিহীন ধরপাকড় ও দমন অভিযান। নিরাপত্তা বাহিনীর এই কঠোর অভিযানে এখন পর্যন্ত ডজনখানেক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে ইসা চিরোমা প্রাণ বাঁচাতে গাম্বিয়ায় নির্বাসনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। উত্তরাঞ্চলীয় শহর গারুয়াসহ দেশটির বিভিন্ন শহরের রাস্তাঘাট এখন জনশূন্য, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান আতঙ্কের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে আনিসেট একানের মৃত্যু বিরোধী শিবিরের জন্য এক বিশাল ধাক্কা। একানে ছিলেন ক্যামেরুনের বামপন্থী রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের অগ্রনায়ক। তার এই প্রয়াণ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষতি নয়, বরং দেশটির গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে বিরোধী নেতার এই মৃত্যু প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার দীর্ঘস্থায়ী শাসনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলবে এবং দেশটিকে গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।