শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাইতির সেন্ট-মার্কে সিটি হল দখল করে বিক্ষোভ, গ্যাং সন্ত্রাস থেকে বাঁচতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০১:৪৪ পিএম

হাইতির সেন্ট-মার্কে সিটি হল দখল করে বিক্ষোভ, গ্যাং সন্ত্রাস থেকে বাঁচতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ
ছবি: AP

হাইতির সেন্ট-মার্ক শহরে গ্যাং সন্ত্রাসের ভয়াবহতা চরমে পৌঁছেছে। সশস্ত্র অপরাধী চক্রের ক্রমাগত হামলা ও লুটপাটের প্রতিবাদে এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সোমবার শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় সিটি হল দখল করে নিয়েছে।

 

সপ্তাহজুড়ে দেশটির মধ্যাঞ্চলে ‘গ্র্যান গ্রিফ’ নামক কুখ্যাত গ্যাংয়ের বর্বরোচিত হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণহানি এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর এই নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খল বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, সেন্ট-মার্ক ও পার্শ্ববতী পন্ট-সন্ডে এলাকায় গ্যাং সদস্যদের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রশাসনকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী চালেসমা জ্যঁ মার্কোস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা মেয়র, মন্ত্রী এবং পুলিশ প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আগেই জানিয়েছিলাম যে সাভিয়েন থেকে দস্যুরা পন্ট-সন্ডে দখল করতে আসছে এবং এরপর তাদের লক্ষ্য সেন্ট-মার্ক।

 

অথচ আমাদের নিরাপত্তা দিতে কেউ এগিয়ে আসেনি।" বিক্ষোভকারীদের মতে, প্রশাসনের এই উদাসীনতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পুলিশ জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, বের্সি এবং পন্ট-সন্ডে শহরে সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্য আর্টিবোনাইট অঞ্চলের প্রায় অর্ধেক এলাকা এখন গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

 

তবে পুলিশের এই অসহায়ত্বের চিত্র নতুন নয়। বর্তমানে হাইতির পুলিশ বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য এবং জাতিসংঘ সমর্থিত কেনিয়ান মিশনের কর্মকর্তারা রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স কেন্দ্রিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। ফলে রাজধানীর বাইরের অঞ্চলগুলো কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে এবং গ্যাংগুলোর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

 

গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে ‘গ্র্যান গ্রিফ’ গ্যাংয়ের সদস্যরা পন্ট-সন্ডে এলাকায় যে তান্ডব চালায়, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়। এই ঘটনা জনমনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে এই একই গ্যাং পন্ট-সন্ডেতে ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছিল, যাতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়।

 

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং মার্কিন সরকার সম্প্রতি এই গ্যাংয়ের নেতা লাকসন এলান এবং তার সহযোগী সাবেক আইন প্রণেতা প্রোফেন ভিক্টরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। প্রোফেন ভিক্টরের বিরুদ্ধে আর্টিবোনাইট অঞ্চলের যুবকদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, চলতি বছরে হাইতির আর্টিবোনাইট এবং মধ্যাঞ্চলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই অঞ্চলে ১,৩০৩ জন নিহত হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি।

 

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খল বাহিনীর সীমিত উপস্থিতির সুযোগে গ্যাংগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করছে, যা দেশটির স্থিতিশীলতার জন্য এক অশনিসংকেত। সেন্ট-মার্কের এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, হাইতির সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে।

 

- Africa News