বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিরতি মানেই ‘ধীরগতিতে গুলি চালানো’- ডোনাল্ড ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

যুদ্ধবিরতি মানেই ‘ধীরগতিতে গুলি চালানো’- ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় ইরানের কাছে ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটির অর্থ ও প্রয়োগ একেবারেই ভিন্ন। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভবন হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই আলোচিত মন্তব্য করেন।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ঘটে যাওয়া এক তীব্র ও ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই যুদ্ধবিরতির সংজ্ঞা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

জবাবে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি বলেন, তেহরানের দৃষ্টিকোণ থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা চুক্তির অর্থ হলো, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা ধীরগতিতে বা পরিমিত মাত্রায় গুলি চালানো।

 

হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গণমাধ্যমকর্মীদের আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চলটি বিশ্বের সম্পূর্ণ আলাদা একটি অংশ। তার মতে, সেখানে যুদ্ধবিরতি বলতে মূলত বোঝায় যখন প্রতিপক্ষ কিছুটা পরিমিতভাবে গুলি চালায়, যা তাদের কাছে খুব একটা খারাপ পরিস্থিতি নয়।

 

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় সেখানে এই শব্দটির প্রায়োগিক অর্থ অনেকটাই ভিন্ন। তবে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক একটি ইতিবাচক সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চলমান সামরিক উত্তেজনার পরও চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি বৃহৎ ও স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে এক টেবিলে আলোচনায় বসতে পারে।

 

যদিও তার এমন যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে দেশের ভেতরে থাকা নিজস্ব রাজনৈতিক মিত্র এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিপক্ষ-উভয় শিবিরের কাছ থেকেই তাকে তীব্র সমালোচনা ও সতর্কবার্তার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

 

মার্কিন প্রশাসনের অধীনে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই সংঘাতটি প্রাথমিকভাবে একটি সংক্ষিপ্ত সামরিক অভিযান হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তা একটি দীর্ঘমেয়াদি, অনির্দিষ্টকালের ও চরম জটিল সংকটে রূপ নিয়েছে।

 

প্রায় এক সপ্তাহ আগে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকেরা চলমান সংঘাতের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ষাট দিন বৃদ্ধি করতে এবং একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন।

 

চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু তিনি ওই খসড়া চুক্তিতে বেশ কিছু অনির্দিষ্ট পরিবর্তনের দাবি জানালে পুরো শান্তি প্রক্রিয়াটি থমকে যায়।

 

অন্যদিকে, ইরানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারাও ট্রাম্পের জুড়ে দেওয়া এই নতুন শর্তগুলোর কাছে নতি স্বীকার করতে সুস্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত সাতই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘ আটত্রিশ দিনের ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক বোমাবর্ষণের পর উভয় পক্ষের মধ্যে চৌদ্দ দিনের একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

 

আন্তর্জাতিক মহল সাময়িক এই শান্তি পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া উপর্যুপরি পাল্টাপাল্টি হামলা সেই নাজুক ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটিকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দেওয়ার গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে চরম অস্থিতিশীলতা ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

- এনডিটিভি