সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিনের মিত্র রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি ট্রাম্প নিজের এবং নেতানিয়াহুর মধ্যকার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, অন্যদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, ব্যক্তিগতভাবে ‘বিবি’ নেতানিয়াহু তাঁর জন্য একজন অসাধারণ ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।
আন্তর্জাতিক মহলে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই জোরালো সমর্থন মিত্রতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার সুস্পষ্ট বার্তা দেয়।
বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল ইরান প্রসঙ্গ। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য ইরানকে অন্যতম প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত সামরিক ও কৌশলগত কার্যক্রমে ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহায়তা অপরিহার্য ছিল।
দুই দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর যৌথ কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, তারা অত্যন্ত কার্যকর ও সুচারুভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করেছেন। তাঁর মতে, ওই সংকটময় মুহূর্তে ইসরায়েলের একান্তভাবেই মার্কিন সাহায্যের প্রয়োজন ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা ছাড়া ইসরায়েল এই সফলতার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারত না। মূলত একটি বাস্তবমুখী ও ভয়াবহ সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওয়াশিংটন তার মিত্র রাষ্ট্রকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্যই একটি বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মূল্যায়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ইরানকে যদি সঠিক সময়ে এবং যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিহত করা না যেত, তবে পরিস্থিতি কোনোভাবেই শুধু ইসরায়েলের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত না।
তাঁর আশঙ্কা, তেহরানের আগ্রাসী নীতি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে চরম অস্থিতিশীলতা ও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিত, যার বিরূপ প্রভাব পড়ত সারা বিশ্বে। বর্তমানে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন ব্যাপক আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।