শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসে সিট দখল ঠেকাতে কুবিতে চালু হচ্ছে পরিবহন কার্ড!

মোঃ ইহসানুল হক সাকিব

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

বাসে সিট দখল ঠেকাতে কুবিতে চালু হচ্ছে পরিবহন কার্ড!
ছবি : নিজস্ব প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষার্থীদের বাসে আসন দখল ও সংরক্ষণের প্রবণতা রোধ এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে শিগগিরই ‘পরিবহন কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন পুলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুল করিম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, কার্ড চালু হলে বাস ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সহজ হবে।

 

পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী যেন একাধিক আসন দখল করে রাখতে না পারেন এবং বহিরাগতদের বাসে ওঠা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বাসগুলোতে যাত্রী উপস্থিত না থেকেও ইট, খবরের কাগজ, আইডি কার্ড, স্কেল, খালি বোতল, মোবাইলের কাভার, ভাঙা আয়নার টুকরা, গাছের ডাল ও পলিথিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী রেখে আসন সংরক্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে।

 

ফলে আগে বাসে উঠেও অনেক শিক্ষার্থী খালি আসনে বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অনেক সময় পুরো পথ দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।


এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুল করিম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উপ-উপাচার্যের সঙ্গে পরিবহন পুলের সদস্যসচিবকে নিয়ে বৈঠক করেছি। একটি নোটিশ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেটি ডিনদের কাছে পাঠানো হবে।

 

পরে ডিনরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো হবে।” তিনি আরও বলেন, “খুব শিগগিরই পরিবহন কার্ড চালুর ব্যবস্থা করা হবে। আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে সব বিভাগে চিঠি পাঠানো হবে।

 

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হবে, যেন কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা অপ্রাসঙ্গিক সামগ্রী দিয়ে বাসের আসন সংরক্ষণ না করা হয়।” পরিবহন পুলের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “পরিবহনসেবা আরও সুশৃঙ্খল করতে আমরা পরিবহন কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি।

 

এটি চালু হলে অতিরিক্ত সিট দখল করে রাখার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে বহিরাগত যাত্রীদের বাসে ওঠাও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।” পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়ায় পরিচালিত মোট ২৫টি বাস রয়েছে।

 

এর মধ্যে ১২টি নীল বাস, তিনটি মিনিবাস এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) থেকে ভাড়া নেওয়া ১০টি বাস রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এসব বাসে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন।

 

নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনের তুলনায় যাত্রীর চাপ বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক সময় বাসে খালি আসন থাকলেও আগে থেকে বিভিন্ন সামগ্রী রেখে তা দখল করে রাখা হয়। এতে আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরাও আসন ব্যবহার করতে পারেন না।

 

তাদের মতে, একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি আসনের ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পরিবহন পুলের আহ্বায়ক জানান, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

 

পরিবহন কার্ড চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও বাস ব্যবহারের বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে তদারকি করা সম্ভব হবে। এতে আসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতজনিত ভোগান্তিও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 


উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে কুবির পরিবহন বাসে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সামগ্রী রেখে আসন দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যেই পরিবহন কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।