শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎ববিতে র‍্যাগিং, অসুস্থ হয়ে নবীন শিক্ষার্থী হাসপাতালে!

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

‎ববিতে র‍্যাগিং, অসুস্থ হয়ে নবীন শিক্ষার্থী হাসপাতালে!
ছবি : নিজস্ব প্রতিনিধি

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে(ববি) মৃত্তিকা,পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র কতৃক নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ে এক নবীন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ইমিডিয়েট সিনিয়র দ্বারা রাতে কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে র‍্যাগিংয়ের শিকার হন শিক্ষার্থীরা। র‍্যাগিং চলাকালে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এক নবীন শিক্ষার্থী, পরবর্তীতে তাকে শেবাচিম পাঠানো হয়।

 

ভুক্তভোগী মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী মো. শরিফুল ইসলাম শিক্ষার্থী। তিনি এখনও হসপিটালে চিকিৎসা দিন অবস্থায় রয়েছেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৭সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় র‍্যাগিংয়ের শিকার হন নবীন শিক্ষার্থীরা, এসময় কিছু এই সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী শরিফুল।

 

এবং অভিযোগ উঠেছে ইমিডিয়েট সিনিয়ররা অকথ্য ভাষা গালিগালাজ করেন নবীন শিক্ষার্থীদের সাথে। কিছু নবীন শিক্ষার্থী সেখানে যথাসময় না পৌঁছালে তাদেরকে ভয় দেখিয়ে পুনরায় রাত ৯টায় সেখানে ডেকে নেওয়ার হয়।

 

এবং আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত র‍্যাগিং চলতে থাকে নবীন শিক্ষার্থীদের উপর। ‎এর‍্যাগিং চলাকালে উপস্থিত ছিলেন অন্তত ১০জন ইমিডিয়েট সিনিয়র, তারা হলেন, নূর মোহাম্মদ পরশ(CR), অনিক, নাজ, শ্রাবণ, অনুপম,লিমন, জয়, রিয়াদ, প্রীতম এবং রাফি।

 

‎মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেন," আমরা আমাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি পড়াশোনা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু আজ আমাদের সেই স্বপ্নের জায়গাটিই যেন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

 

১৪তম ব্যাচের কিছু ভাই র‍্যাগিংয়ের নামে আমাদের এক বন্ধুকে এমনভাবে নির্যাতন করেছেন যে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।" ‎তারা আরো বলেন," আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি, কারও হাতে নির্যাতিত বা অপমানিত হতে নয়।

 

একজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের নামে অজ্ঞান করে হাসপাতালে নিতে হলে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। পরিবার থেকে দূরে এসে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি মনে করি। কিন্তু যদি এই ক্যাম্পাসেই আমাদের জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে আমরা কীভাবে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করব?

 

এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। আমরা পড়াশোনা করতে বাড়ি ছেড়ে এসেছি-ভয় নিয়ে বাঁচতে নয়। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ চাই।"

 

‎নিজের উপস্থিতির কথা স্বীকার করে ১৪তম ব্যাচের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) বলেন," আমি সেখানে পরে গিয়েলাম। ছেলেটা আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। পরে আমরা তাকে হসপিটালে ভর্তি করি।"

 

এরপর একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয় নি। ‎মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন,"র‍্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। ছেলেটার আগে থেকেই পেটের সমস্যা ছিল, অসুস্থ হওয়ার পরে তাকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়।

 

আর আমিও রাতে আসছি। ওর বাবার সাথেও কথা হয়েছে ওর বাবা আসবে। যদি র‍্যাগিংয়ের কোনো অভিযোগ লিখিত আসে তাহলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।" ‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, "র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে তিনি মেডিকেলে দেখতে যাবেন এবং এই ঘটনায় অভিযুক্তদের তদন্তপূর্বক শাস্তি নিশ্চিত করবেন বলে জানান।"