রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উগ্র ডানপন্থী যুব সংগঠন রুখতে ৫০ হাজার মানুষের বিক্ষোভ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম

উগ্র ডানপন্থী যুব সংগঠন রুখতে ৫০ হাজার মানুষের বিক্ষোভ
ছবি: AP

জার্মানির মধ্যাঞ্চলীয় শহর গিসেন আজ এক উত্তাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। দেশটির বিতর্কিত উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' বা এএফডি (AfD)-র নতুন একটি যুব শাখার আত্মপ্রকাশ ঠেকাতে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা।

 

শনিবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা এএফডি-র সম্মেলনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, দিনশেষে এই বিক্ষোভে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটবে, যা সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে অন্যতম বৃহত্তম ফ্যাসিবাদ-বিরোধী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

 

গিসেন শহরের প্রবেশপথ এবং প্রধান সড়কগুলোর অন্তত ১৬টি স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হয়েছে। 'রেজিস্ট' নামক একটি জোটের নেতৃত্বে এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়ক এবং ফেডারেল রোডগুলোতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এএফডি প্রতিনিধিদের সম্মেলনস্থল 'হেসেনহালেন'-এ নিরাপদে পৌঁছে দিতে পুরো জার্মানি থেকে প্রায় ৬,০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

লানব্রুকে সেতুর কাছে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশকে জলকামান ব্যবহার করতে দেখা গেছে। কিছু জায়গায় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে মুখরিত করে রেখেছেন রাজপথ।

 

ছাত্র সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, এবং 'ওমাস গিগেন রেকটস' (ডানপন্থার বিরুদ্ধে দাদীমা)-এর মতো প্রবীণদের সংগঠনগুলোও এতে যোগ দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ফিলিস্তিনি পতাকাও দেখা গেছে। 'রেজিস্ট' জোটের মুখপাত্র সুরজ মাইলিতাফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কোনো সহিংস ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীকে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেব না। জার্মানির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ আজ তাদের পথ রোধ করে দাঁড়িয়েছে।"

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জার্মান পার্লামেন্টের সদস্য জেনিন উইসলার বলেছেন, এএফডি কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল নয় এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বার্তা দিতেই তিনি এখানে উপস্থিত হয়েছেন। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেদ করে এএফডি-র প্রায় ২০০ প্রতিনিধি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন, যদিও সেখানে প্রায় ১,০০০ প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

দলের শীর্ষ নেতারা, অ্যালিস উইডেল এবং টিনো ক্রুপাল্লা, এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন এবং নতুন যুব সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন বলে জানা গেছে। তবে বাইরের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ এএফডি-র এই নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগকে শুরুতেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। গণতন্ত্রকামী মানুষের এই বিশাল সমাবেশ প্রমাণ করে যে, জার্মান সমাজ উগ্র মতবাদের উত্থান রোধে কতটা সচেষ্ট।

 

- Euro News