মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া গাজা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের অভ্যন্তরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। একদিকে যখন একটি পক্ষ দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য শর্তহীনভাবে প্রস্তাবটি মেনে নেওয়ার পক্ষে, তখন অন্য একটি প্রভাবশালী পক্ষ নিরস্ত্রীকরণ এবং নেতাদের নির্বাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। এই অভ্যন্তরীণ আলোচনার মধ্যেই, হামাস মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে যে, প্রস্তাবটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে তাদের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামাসকে এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য "তিন থেকে চার দিনের" একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হামাসের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, "ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে এবং এর জন্য আরও সময় প্রয়োজন।"
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ নাজ্জাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, "পরিকল্পনাটিতে উদ্বেগের মতো কিছু বিষয় রয়েছে, এবং আমরা শীঘ্রই এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান ঘোষণা করব।"
হামাসের ঘনিষ্ঠ সূত্রমতে, গোষ্ঠীটি মূলত কয়েকটি বিষয়ে পরিবর্তন চায়। এর মধ্যে রয়েছে—হামাসের নিরস্ত্রীকরণের শর্ত বাতিল, তাদের নেতাদের নির্বাসনে না পাঠানো, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের জন্য আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি এবং ভবিষ্যতে তাদের নেতাদের ওপর গুপ্তহত্যার চেষ্টা করা হবে না—এমন নিশ্চয়তা।
সূত্র আরও জানায়, হামাসের ভেতরে একটি পক্ষ মনে করছে, ট্রাম্পের গ্যারান্টির অধীনে একটি যুদ্ধবিরতি অর্জনই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, অপর পক্ষ বলছে, নিরস্ত্রীকরণের মতো মৌলিক দাবি মেনে নেওয়া আত্মসমর্পণের শামিল। এই অভ্যন্তরীণ দ্বিধার কারণেই হামাসের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত জবাব আসতে দেরি হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটকে এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে।