মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তদন্ত চাওয়ায় 'বিষাক্ত যন্ত্রের' শিকার, মুক্ত জিম্মির মায়ের গুরুতর অভিযোগ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৩৫ এএম

তদন্ত চাওয়ায় 'বিষাক্ত যন্ত্রের' শিকার, মুক্ত জিম্মির মায়ের গুরুতর অভিযোগ
ছবি: Flash 90

গাজা থেকে মুক্তি পাওয়া জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা এইনাভ জাঙ্গাউকার অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তিনি এবং তাঁর পরিবার “বিষাক্ত যন্ত্রের” (poison machine) আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এই শব্দটি প্রায়শই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচকদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়। সমালোচকদের মতে, এটি হচ্ছে প্রচারকদের এমন একটি নেটওয়ার্ক, যারা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্ররোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ ছড়িয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য কাজ করে।

 

এইনাভ জাঙ্গাউকার, যিনি মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের স্বজনদের মধ্যে সরকারের কড়া সমালোচক হিসাবে পরিচিত, তাঁর ছেলের মুক্তি পাওয়ার পরেও সরকারের আচরণ নিয়ে তাঁর সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি ৭ই অক্টোবরের ব্যর্থতাগুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও বিস্তৃত তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন-যার বিরোধিতা করছেন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সমর্থকরা। এই কারণেই তিনি ইসরায়েলি নেতার সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (পূর্বে যা টুইটার নামে পরিচিত ছিল) এইনাভ জাঙ্গাউকার একটি পোস্টে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “বিষাক্ত যন্ত্র, তাদের গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মুখপাত্রদের নিয়ে, জিম্মিদশা থেকে বেঁচে ফেরা পরিবারগুলোকে-বিশেষ করে আমাকে-ভয় দেখাতে চাইছে।”

 

জাঙ্গাউকার আরও বলেন, “তাদের লক্ষ্য পরিষ্কার: লক্ষ লক্ষ ইসরায়েলির সাথে মিলে আমরা যে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম চালিয়েছিলাম, তার ওপর কালি ছিটিয়ে তারা ইতিহাস নতুন করে লিখতে চায়। সেই একই সংগ্রাম, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পদক্ষেপ নিতে এবং নেতানিয়াহু ও হামাসকে যুদ্ধ শেষ করে জিম্মিদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার চুক্তিতে বাধ্য করেছিল,” তিনি স্পষ্ট করে জানান। “পদ্ধতিটা সবসময় একই-আমাদের, অর্থাৎ পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে মিথ্যা, অপবাদ এবং মানহানিকর প্রচারে ভরা অভিযান।”

 

এইনাভ জাঙ্গাউকার জোর দিয়ে বলেছেন যে তিনি এই ধরনের হিংসাত্মক আচরণ মেনে নেবেন না এবং সংগঠিত অপপ্রচার অভিযানে ভয় পাবেন না। তিনি তাঁর পোস্টে যোগ করেছেন: “সাধারণ মানুষ বোকা নয় এবং তারা দেখতে পাচ্ছে যে এটি একটি সমন্বিত, অর্থায়নপ্রাপ্ত রাজনৈতিক প্রচারণা। এর উদ্দেশ্য হলো জিম্মি ও নিহতদের জন্য আমার লড়াই চালিয়ে যাওয়া থেকে আমাকে বিরত করা, এবং ৭ই অক্টোবরের সব পরিবারকে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে ব্যর্থতার সত্য দাবি করা থেকে নিবৃত্ত করা।”

 

জাঙ্গাউকারের এই কঠোর অবস্থান জিম্মিদের স্বজনদের বৃহত্তর আন্দোলনের মধ্যে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে পরিবারগুলোর ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে দুর্বল করতে এবং সরকারের সমালোচনাকে চাপা দিতে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা সুপরিকল্পিতভাবে এই ধরনের আক্রমণ চালাচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জিম্মি ইস্যু নিয়ে জনমতের বিভাজনের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। এইনাভ জাঙ্গাউকার এবং অন্য সমালোচনাকারী পরিবারগুলো এই প্রচারণার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর, যা ইসরায়েলি সমাজের একটি সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে।

 

তাঁদের দাবি, ৭ই অক্টোবরের ঘটনাগুলির প্রকৃত সত্য উন্মোচন এবং ভবিষ্যতের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর জোট যদিও এখন পর্যন্ত এই ধরনের কোনো তদন্তের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন, কিন্তু জিম্মিদের স্বজনদের চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

 

- Times Of Israel