স্পিকার ওহানার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তিনি এই অর্থ কর্তনের বিষয়ে ইতিমধ্যেই অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। তবে, এই প্রস্তাবটি কার্যকর করার জন্য নেসেট বাজেট সংক্রান্ত যৌথ কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।
নেসেট স্পিকার আমির ওহানা তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনে তাঁর মূল নীতি ব্যাখ্যা করে বলেন, "আমার নীতি হলো যেখানেই সম্ভব সরকারি ব্যয় হ্রাস করা এবং সেই অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়া, যাতে তা দেশের নাগরিকদের এবং বিশেষ করে যুদ্ধ-আক্রান্ত এলাকার জনপদগুলোর পুনর্বাসনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।"
স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ওহানা কর্তৃক মোট বাজেট হ্রাসের পরিমাণ এই নতুন কাটছাঁটের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এটি নিয়ে ওহানা কর্তৃক শুরু করা মোট আর্থিক কর্তনের পরিমাণ ৩২৬ মিলিয়ন NIS-এ পৌঁছাবে, যা প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
এর আগে, দেশের যুদ্ধকালীন জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য তিনি দুবার বাজেট কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন: প্রথম কর্তন: ২০২৩ সালের নভেম্বরে অপারেশনাল বাজেট থেকে ৮০ মিলিয়ন NIS (প্রায় $২৪.৫ মিলিয়ন) কমানো হয়। দ্বিতীয় কর্তন: ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আরও ১২১ মিলিয়ন NIS (প্রায় $৩৭ মিলিয়ন) হ্রাস করা হয়।
নেসেটের স্পিকারের কার্যালয় থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই সর্বশেষ বাজেট কর্তনের ফলে পার্লামেন্টের অত্যাবশ্যকীয় কার্যক্রমে কোনো প্রকার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, নেসেটের আর্থিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে পার্লামেন্টের সক্ষমতা বজায় থাকবে।
তবে, বাজেট কর্তনের ফলে নেসেটের ঠিক কোন কোন খাতে প্রভাব পড়বে বা কোন কোন ক্ষেত্র থেকে এই অর্থ কমানো হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পিকারের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেসেটের দৈনন্দিন পরিচালনা, প্রশাসনিক ব্যয়, বা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো থেকে এই অর্থ সাশ্রয় করা হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন ইসরায়েল যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে এবং অভ্যন্তরীণ পুনর্বাসন ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ সরকারি অর্থের বিচক্ষণ ব্যবহার এবং যুদ্ধ-বিধ্বস্ত জনগণের প্রতি সংবেদনশীলতার বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
স্পিকার ওহানার এই ধারাবাহিক বাজেট সংকোচনের নীতিটি সরকারি উচ্চপদস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ের ওপর জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যেখানে প্রতিরক্ষামূলক ও সামাজিক কল্যাণমূলক খাতে অর্থের জরুরি প্রয়োজন, সেখানে নেসেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বাজেট থেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অর্থ কমানোর এই প্রক্রিয়াটিকে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, নেসেটের বাজেট কমিটি এবং অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে এই প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে, সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য চাপ বাড়ায়, যৌথ কমিটি দ্রুত এই বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।