বাহরাইনে অনুষ্ঠিত IISS মানামা সংলাপে যোগ দিয়ে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি তার জার্মান প্রতিপক্ষ ইয়োহান ভেডেফুল-এর সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে এই অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন। প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীটির কার্যকারিতা ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট থাকা আবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা সকলে একমত যে, এই স্থিতিশীলতা বাহিনীকে তার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট থাকা অত্যন্ত জরুরি।" সাফাদি আরও বলেন, এই ম্যান্ডেট ছাড়া যেকোনো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আইনি ভিত্তি দুর্বল থেকে যায় এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
জার্মানির পক্ষ থেকেও এই অবস্থানে সম্পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইয়োহান ভেডেফুল উল্লেখ করেন, এই বাহিনীর জন্য আন্তর্জাতিক আইনে একটি স্পষ্ট ভিত্তি থাকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, "আমরা বুঝি, যে দেশগুলো গাজায় সৈন্য পাঠাতে প্রস্তুত, তাদের জন্য এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানিও এই অভিযানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট দেখতে চায়।" এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বাহিনীর বৈধতা এবং অংশগ্রহণের বিষয়ে অংশীদার দেশগুলোর উদ্বেগকে তুলে ধরে।
যদিও জর্ডান আন্তর্জাতিক বাহিনীর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের ম্যান্ডেটকে জোরালো সমর্থন করছে, তবুও দেশটি গাজায় সরাসরি সামরিক বাহিনী পাঠাবে না বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফাদি। তিনি স্পষ্ট করে জানান, "আমরা এই সমস্যার খুব কাছাকাছি একটি পক্ষ, এবং আমরা গাজায় সৈন্য মোতায়েন করতে পারি না।" তবে, তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, তার দেশ আন্তর্জাতিক এই স্থিতিশীলতা বাহিনীর সাথে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকবে। জর্ডান ও মিশর প্রাথমিকভাবে এই বাহিনীর জন্য ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা পরিকল্পনার অধীনে, মূলত আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি জোট গাজায় বাহিনী মোতায়েন করে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বাহিনী গাজার সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত করা এবং হামাসের কাছে অস্ত্র চোরাচালান রোধেও কাজ করবে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো সামরিক বা পুলিশি অভিযানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আইনি বৈধতা এনে দেয়। এই ধরনের ম্যান্ডেট ছাড়া মোতায়েন করা বাহিনী আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে এবং এটি স্থানীয় জনগণের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
জর্ডান ও জার্মানির এই যৌথ দাবি আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রতি তাদের নিজস্ব আইনি ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা প্রতিফলিত করে। একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো ছাড়া, বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে, সামরিক বা নিরাপত্তা মোতায়েনকারী দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আনতে হলে যে কোনও পদক্ষেপের জন্য একটি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত আইনি ভিত্তি থাকা প্রয়োজন, যা কেবল জাতিসংঘের ম্যান্ডেটই দিতে পারে। এর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য স্থানীয় পক্ষগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।
এই আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, গাজায় যুদ্ধবিরতির পর শান্তি বজায় রাখতে শুধু সামরিক উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়; বরং সেই উপস্থিতির পিছনে সুদৃঢ় আন্তর্জাতিক আইন ও রাজনৈতিক সম্মতি থাকা অত্যাবশ্যক। এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের ছাতার নিচে এর আইনি কাঠামো নির্ধারণের ওপর।