শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৈরুতের হৃদপিণ্ডে হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক নেতাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:৩৯ পিএম

বৈরুতের হৃদপিণ্ডে হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক নেতাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা
ছবি: AFP

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এক জোরালো বিমান হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েল। রবিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বৈরুতের ঠিক হৃদপিণ্ডে চালানো এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন হিজবুল্লাহর ডি ফ্যাক্টো চিফ অফ স্টাফ বা শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হায়থাম আলী তাবাতাবাই।

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে খোদ লেবাননের রাজধানীর কেন্দ্রে এমন হাই-প্রোফাইল হামলা সংঘাতের মাত্রাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অস্ত্রসজ্জার নেপথ্যে প্রধান কারিগর ছিলেন এই হায়থাম আলী তাবাতাবাই।

 

সংগঠনের ভেতর তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, "কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বৈরুতের কেন্দ্রে হিজবুল্লাহর চিফ অফ স্টাফের ওপর নিখুঁত হামলা চালিয়েছে, যিনি দীর্ঘ দিন ধরে সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।" এই বিবৃতির মাধ্যমে ইসরায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের গোয়েন্দা নজরদারি হিজবুল্লাহর সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।

হামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে যে, এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত সামরিক অভিযান। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং আইডিএফ-এর চিফ অফ স্টাফের সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরাসরি এই হামলার নির্দেশ প্রদান করেন।

 

সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই সমন্বিত সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে কতটা আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে। হামলা পরবর্তী সময়ে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি হারেত হরেইক এলাকার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হামলার শিকার হওয়া একটি আবাসিক ভবনের সামনে ধুলোমলিন পরিবেশে সাধারণ মানুষ ভিড় করেছেন। ধ্বংসস্তূপের মাঝে আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

 

ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এমন হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসরায়েল তার অবস্থানে অনড়। বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর একটি কঠোর বার্তা তুলে ধরা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সংঘাতের গতিপথ নির্দেশ করে। তিনি বলেন, "ইসরায়েল তার লক্ষ্য অর্জনে যে কোনো স্থানে এবং যে কোনো সময়ে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।"

 

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, ইসরায়েল তার শত্রুদের দমনে ভৌগোলিক কোনো সীমারেখা মানবে না এবং প্রয়োজন হলে এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে। বৈরুতের বুকে এই হামলা এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাম্ভিক স্বীকারোক্তি চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

- Times Of Israel