রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের দ্বন্দ্বে ইসরায়েলের ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:০৯ পিএম

ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের দ্বন্দ্বে ইসরায়েলের ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি
ছবি: MNA

তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে সাম্প্রতিক ১২ দিনের সংঘাত ইসরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল এবং কৌশলগতভাবে ব্যর্থ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান ও দাপ্তরিক বিবৃতিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই সংঘাত ইসরায়েলি অর্থনীতির ওপর এক নজিরবিহীন আঘাত হেনেছে।

 

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতে, এই আগ্রাসন ছিল ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দীর্ঘ ২০ বছরের একটি পরিকল্পনার অংশ, যা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কঠোর মিডিয়া সেন্সরশিপের কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের স্বীকারোক্তি এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিশাল অর্থনৈতিক ও সামরিক বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে।

 

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল জিওরা আইল্যান্ড প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া তাদের স্বার্থের অনুকূলে ছিল না, বরং যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়াই ছিল শ্রেয়। তার এই মন্তব্য মূলত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতারই নামান্তর। সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টও একই সুরে কথা বলেছেন।

 

তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি শহরগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং এই সংঘাত প্রমাণ করেছে যে ইরানের মোকাবিলায় তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। এমনকি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এবং ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর মতো পত্রিকার বিশ্লেষকরাও স্বীকার করেছেন যে, সমস্ত সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও তেল আবিব ইরানের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে পারেনি।

 

অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে ৪১,৬৫১টি ক্ষতির দাবি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার দাবিই ভবন বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক শ্লোমো মাওজের মতে, ১২ দিনের এই সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

 

প্রযুক্তি, পর্যটন, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন খাতের স্থবিরতায় আরও প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই সংঘাতের প্রভাবে ইসরায়েলের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক ব্যয়ের দিক থেকেও এই যুদ্ধ ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ইসরায়েলের দৈনিক সামরিক ব্যয় ছিল গড়ে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার।

 

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন এবং আয়রন ডোম বা ডেভিডস স্লিং-এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রতিদিন বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি হামলায় হাইফা তেল শোধনাগার এবং তেল আবিবের সামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার।

 

এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হিসেবে ইসরায়েলের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশে পৌঁছেছে এবং আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থাগুলো দেশটির অর্থনীতি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। মূলত, ১২ দিনের এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, সামরিক ও অর্থনৈতিক-উভয় ক্ষেত্রেই ইসরায়েলকে বড় ধরণের মাশুল দিতে হয়েছে, যা তাদের যুদ্ধবিরতির পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে।

 

- Mehr News