ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক ও আইনি বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রোববার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন আসন্ন বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ইরানি প্রতিনিধিদলের ভিসার আবেদন করা হয়। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ পুরো প্রতিনিধিদলের পরিবর্তে মাত্র একজন সদস্যের জন্য ভিসা অনুমোদন করে।
এই ঘটনাকে অপমানজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে ইরানি ফুটবল ফেডারেশন পুরো অনুষ্ঠানটি বয়কট বা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গারিবাবাদি ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ’ হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যখন একটি বড় প্রতিনিধিদলের মধ্যে মাত্র একজনকে অনুমতি দেওয়া হয়, তখন সেই ব্যক্তির পক্ষে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বা না দেওয়া সমান কথা। এটি স্পষ্টতই একটি অসহযোগিতামূলক আচরণ।”
গারিবাবাদি তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক ইভেন্টের আয়োজক দেশগুলোর দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা রয়েছে অংশগ্রহণকারী সব দেশের প্রতিনিধিদের নির্বিঘ্নে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র স্বাগতিক হওয়ার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ভিসা প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, “স্বাগতিক দেশ হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো দেশকে ক্রীড়া ইভেন্ট থেকে দূরে রাখা অপেশাদার আচরণ এবং এটি খেলাধুলার পবিত্রতা ও নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” ইতিমধ্যেই ইরান এই অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। তেহরান মনে করে, রাজনীতির মাঠের দ্বন্দ্ব খেলার মাঠে টেনে আনা শুভলক্ষণ নয়।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ইরানি ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণের পথে সৃষ্ট যেকোনো বাধা অপসারণে তার সরকার অবিচল থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের বৈরী আচরণ ইরানি অ্যাথলেটদের মনোবল ভাঙতে পারবে না, বরং তারা বিশ্বমঞ্চে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা অব্যাহত রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তাই টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ভিসা সংক্রান্ত এই জটিলতা ফিফার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।