শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আল্লাহর শত্রু ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু”—ইরানে জারি হলো ভয়ংকর ফতোয়া, যা কেবল ধর্মীয় নয়, সরাসরি এক রাজনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণাও

RNS News

RNS News

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই, ২০২৫, ০৯:০৭ এএম

আল্লাহর শত্রু ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু”—ইরানে জারি হলো ভয়ংকর ফতোয়া, যা কেবল ধর্মীয় নয়, সরাসরি এক রাজনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণাও

আল্লাহর শত্রু ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু”—ইরানে জারি হলো ভয়ংকর ফতোয়া, যা কেবল ধর্মীয় নয়, সরাসরি এক রাজনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণাও। ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজি গতকাল এক ফতোয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো ব্যক্তি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, যারা ইসলামের নেতৃস্থানীয় আলেম বা ধর্মীয় নেতৃত্বকে হুমকি দেয়, তারা সরাসরি আল্লাহর শত্রু, এবং সেই অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।

এই ফতোয়া নিছক বাক্য নয়। ইরানি আইনে সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করা ব্যক্তিদের শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড, শূলবিদ্ধকরণ, অঙ্গচ্ছেদ বা নির্বাসন। ফলে এই আদেশের বাস্তবিক প্রভাব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আয়াতুল্লাহ শিরাজি বলেন, মুসলমানদের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, কারণ তারা শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়—সরাসরি ইসলামী মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের ওপর হামলা চালিয়েছেন। ধর্মীয় ভাষায় বলা হয়েছে, তাদের কোনো ধরণের সহযোগিতা করা অবৈধ, এমনকি মুখে সমর্থন করাও নিষিদ্ধ।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ফতোয়া এসেছে এক উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে—যেখানে গাজায় ইসরায়েলি হামলা আবারও ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে, এবং ইরানও সামরিকভাবে ক্রমাগত যুক্ত হচ্ছে সে সংঘাতে। অন্যদিকে, ট্রাম্প বিভিন্ন সময় গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং ইরানকে উস্কানিমূলক ভাষায় আক্রমণ করেছে। নেতানিয়াহুও সম্প্রতি এক ভাষণে ইরানকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বলে মন্তব্য করেন। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই এমন এক ফতোয়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

ফতোয়ায় আরও বলা হয়, যারা এই ‘আল্লাহর শত্রুদের’ বিরুদ্ধে কথা বলবে বা প্রতিবাদ করবে, তারা সৃষ্টিকর্তার রাস্তায় সংগ্রামরত মুজাহিদের মর্যাদা পাবে। এমন বক্তব্য শুধু ধর্মীয় নয়, এক গভীর রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। এটি শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় আহ্বান নয়, বরং মুসলিম বিশ্বে এক ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও। অতীতে ১৯৮৯ সালে সালমান রুশদির বিরুদ্ধে জারি হওয়া ফতোয়ার ভয়ঙ্কর পরিণতি ইতিহাসে আছে, এবং এবার ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও এমন কিছু ঘটার আশঙ্কা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।

এখন প্রশ্ন হলো—এই ফতোয়া কেবল ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া, নাকি এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক ‘ফতোয়া যুদ্ধের’ সূচনা? পশ্চিমা বিশ্ব কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে এই ঘোষণার মাধ্যমে ইরান যে রাজনৈতিকভাবে আরও আগ্রাসী ভূমিকায় যাচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে বড় বার্তা।