শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নদীর স্রোতে বিদ্যুৎ বরগুনার মনিরুলের যুগান্তকারী উদ্ভাবন!

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৬:২৮ এএম

নদীর স্রোতে বিদ্যুৎ বরগুনার মনিরুলের যুগান্তকারী উদ্ভাবন!
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় নদীর জোয়ার-ভাটার স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় উদ্ভাবক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। নিজের তৈরি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছেন এবং তা দিয়ে অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালাচ্ছেন। তার এই উদ্ভাবন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়রা এতে গর্বিত ও আনন্দিত।

 

মনিরুল ইসলাম, বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা এলাকার একজন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। ২০০৬ সাল থেকে তিনি প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন উদ্ভাবনী গবেষণা করে আসছেন। প্রায় তিন মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তাধারায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনি লোহার যন্ত্রাংশ দিয়ে একটি বিশেষ পাখা (ফ্যান) তৈরি করেন। এই পাখাটি তিনি পায়রা নদীর একটি স্লুইস গেটে স্থাপন করেছেন।

 

জোয়ারের সময় যখন নদীর পানি স্লুইস গেটের মাধ্যমে খাল ও ছোট নদীতে প্রবেশ করে, তখন পানির স্রোতে পাখাটি ঘুরতে থাকে এবং এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়েই তিনি স্লুইস গেটের পাশে অর্ধশতাধিক বাতি জ্বালিয়ে প্রদর্শন করছেন, যা দেখতে স্থানীয় জনগণ ও পথচারীরা ভিড় জমাচ্ছেন।

উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম জানান, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং জ্বালানি খরচ বাঁচানোর চিন্তা থেকেই তিনি এই কাজে উদ্বুদ্ধ হন। তার তৈরি বর্তমান ব্যবস্থায়, পানির উচ্চতার পার্থক্য ৫ ফুট হলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, সামান্য উন্নতি করলে ৩ ফুট উচ্চতার পার্থক্যেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। তিনি আরও বলেন, দিনে দুইবার জোয়ারের সময় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। মনিরুল বিশ্বাস করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার এই প্রযুক্তি উপকূলীয় এলাকাসহ সারাদেশে সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

 

স্থানীয়রা মনিরুলের এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত। তার প্রতিবেশী ও বাল্যবন্ধু কামাল হোসেন জানান, প্রথমে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও মনিরুলের একাগ্র প্রচেষ্টায় তা সম্ভব হয়েছে। তারা মনে করেন, সরকারি সহায়তা পেলে এই উদ্ভাবন দেশের জ্বালানি খাতে বড় অবদান রাখতে পারে। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র শীলের মতে, মনিরুলের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় সরকারি সহযোগিতা পেলে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উপকূলের বিদ্যুৎবিহীন অনেক ঘরে আলো পৌঁছানো সম্ভব হবে। মনিরুলের স্ত্রী তাসলিমা বেগমও স্বামীর এই সাফল্যে গর্বিত এবং ভবিষ্যতের জন্য সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।

 

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি। সৌর, বায়ু এবং পানির মতো প্রাকৃতিক উৎসকে কাজে লাগানোর জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে এবং মনিরুলের মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলোও এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।