তাঁর সুস্পষ্ট অভিযোগ, যে শক্তিশালী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখন ভেতর থেকেই ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও ক্ষমতা যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশে জরুরি অবস্থা জারির মতো চরম ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন বলেও গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শীর্ষ এই কংগ্রেস নেতা।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে রাহুল গান্ধী দেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার একেবারে ভেতরে একটি সংঘবদ্ধ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানকার অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই বিরোধী শিবিরের কাছে নানা গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য সরবরাহ করছেন।
তাঁর ভাষায়, দেশের সিস্টেমের ভেতর একটি বড় ধরনের ঝাঁকুনি আসতে চলেছে। একসময় যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নরেন্দ্র মোদি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন, আজ সেই সিস্টেমই তাঁকে মোদি সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে।
এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়েও নিয়মিত তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছাচ্ছে বলে দাবি করেন রাহুল।
এসব ঘটনার সার্বিক পর্যালোচনার ভিত্তিতেই তিনি মনে করেন, নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ কোনোভাবেই আর এক বছর স্থায়ী হবে না। দেশের আসন্ন সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতের সামনে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট অতি দ্রুত ঘনীভূত হচ্ছে। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচ বা 'শক অ্যাবজরবার' প্রয়োজন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির যেকোনো অস্থিরতা ভারতের অর্থনীতিকে মারাত্মক ও তীব্র নেতিবাচক প্রভাবের মুখে ফেলতে পারে। তথ্য ফাঁসের বিষয়ে আরও বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন, যে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে, সেই কার্যালয় থেকেও তাঁর কাছে গোপন বার্তা আসছে।
এমনকি দেশের শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পদস্থ কর্মকর্তারাও নিয়মিত তাঁকে নানা তথ্য পাঠাচ্ছেন। রাহুল গান্ধীর মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদি বর্তমানে চরম অস্বস্তিকর ও চাপের এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোটি এখন তাঁর হাতছাড়া হতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় সম্ভাব্য গণ-অসন্তোষ দমন করতে সরকার যেকোনো সময় দেশে জরুরি অবস্থা জারির মতো অগণতান্ত্রিক পথ বেছে নিতে পারে।
উল্লেখ্য, ভারতে সর্বশেষ ১৯৭৫ সালের ছাব্বিশে জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল।
যদিও বর্তমান সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কিছু ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ হলো-দেশে অঘোষিতভাবেই গণতান্ত্রিক অধিকার ও পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত করা হয়েছে।
এদিকে, রাহুল গান্ধীর এসব বিস্ফোরক দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করা হয়নি এবং কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসের এই অভিযোগ কতটা আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজে ব্যাপক প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।