ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে নিজ বাড়ির খাটের নিচে লুকিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই নেতার নাম শহিদুল মিয়া।
তিনি পশ্চিমবঙ্গের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মাথাভাঙ্গা এক নম্বর ব্লকের বাসিন্দা। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তিনি বিভিন্ন দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে বিশ হাজার রুপি পর্যন্ত ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনি আনুমানিক প্রায় আট লাখ রুপি কাটমানি হিসেবে আদায় করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেউই সরকারি ঘর পাননি। এমনকি বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও তাঁদের কষ্টে উপার্জিত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।
এই প্রতারণার প্রতিবাদে গত পঁচিশে মে থেকেই ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুরুতে একদল প্রতারিত নারী তাঁদের অর্থ ফেরতের দাবিতে ওই নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এরপর গত বুধবার এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি বিশাল দল পুনরায় তাঁর বাড়ি ঘেরাও করলে তিনি ভেতরে আটকা পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংঘর্ষ এড়াতে শহিদুল মিয়া নিজের শোয়ার ঘরে গিয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে নিকটবর্তী মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং খাটের নিচ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান যে, তাঁরা এখন আর ঘর চান না, কেবল নিজেদের টাকাটুকু ফেরত পেতে চান। পুলিশ জানিয়েছে, এই চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে ধারাবাহিক অভিযান চলমান রয়েছে। ঠিক এমন একটি টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই এই অভাবনীয় ঘটনাটি ঘটল।
এর আগে, এক নারীকে গালাগাল, হুমকি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে গত একলা জুন কলকাতা পৌরসভার একশ চৌদ্দ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই নারীর অভিযোগ ছিল, গত মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিশ্বজিৎ তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিলেন।
এছাড়া, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো পৃথক অভিযোগে গত দোসরা জুন একশ ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর এবং ছত্রিশ নম্বর ওয়ার্ডের শচীন সিংকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর ঠিক এক দিন পরেই দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহেশ কুমার শর্মাকেও একই ধরনের অপরাধে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।