শনিবার, জুন ৬, ২০২৬
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাইলেই ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ডোনাল্ড ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ জুন, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

চাইলেই ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের কাছে মজুত থাকা ৪০০ কেজি বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম চাইলেই দখল করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তবে বর্তমানে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

 

গত ৪ জুন ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই তার এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের ইউরেনিয়ামের এই বিশাল মজুত হস্তগত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মোটেও কঠিন কোনো কাজ নয়। মার্কিন বাহিনী অগ্রসর হলে ইরান তাদের কোনোভাবেই প্রতিহত করতে পারবে না বলে তিনি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

 

তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এমন আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো যৌক্তিক প্রয়োজন এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নেই। উল্লেখ্য, তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই ইউরেনিয়াম।

 

জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি অথরিটির (আইএইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হয়, তবে তা দিয়ে খুব সহজেই একের পর এক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।

 

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে ইরান মূলত পারমাণবিক বোমা তৈরির উদ্দেশ্যেই তাদের ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

 

অন্যদিকে, ইরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের পরমাণু কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে। বর্তমানে ইরানের এই বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে একটি বড় রহস্য।

 

যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই দাবি করে আসছে যে, ইরান যেন এই পারমাণবিক উপাদানগুলো ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তার পেছনে অন্যতম প্রধান একটি লক্ষ্য হলো এই ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।

 

ইউরেনিয়াম ইস্যুর পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাতের বিষয়েও প্রশ্ন করেন।

 

সরাসরি সাক্ষাতে তার কোনো ব্যক্তিগত আপত্তি রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বেশ ইতিবাচক ও কূটনৈতিক মনোভাব প্রদর্শন করেন। তিনি জানান, নিজে থেকে আগবাড়িয়ে দেখা করার কোনো প্রবল আগ্রহ তার নেই।

 

তবে যদি কখনো পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়, তবে তিনি নিজেকে সম্মানিত বোধ করবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, যদি দুই দেশের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসতে তার তরফ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না।

 

- এএফপি, ইন্ডিয়া টুডে