শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপনার অজান্তেই মারাত্মক ক্ষতি করছে প্রতিদিনের যে পাঁচটি সাধারণ বদভ্যাস

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

আপনার অজান্তেই মারাত্মক ক্ষতি করছে প্রতিদিনের যে পাঁচটি সাধারণ বদভ্যাস
ছবি : Collected

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ অঙ্গ হলো যকৃৎ, যা শরীরের বিপাকীয় কাজ থেকে শুরু করে রক্ত পরিশোধন পর্যন্ত অসংখ্য অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব পালন করে থাকে। বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য বর্তমানে এক গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মদ্যপান ছাড়াই যকৃতে চর্বি জমার সমস্যা, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার নামে পরিচিত।

 

অনেকেই মনে করেন, কেবল মদ্যপানের কারণেই যকৃতের মারাত্মক ক্ষতি হয়। কিন্তু আধুনিক নাগরিক জীবনের অত্যন্ত সাধারণ কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস আমাদের অজান্তেই এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির নীরব ধ্বংস ডেকে আনছে।

 

গভীর রাতে খাবার খাওয়া, প্যাকেটজাত ফলের রস পান করা কিংবা কর্মস্থলে দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকার মতো বিষয়গুলোকে আমরা হয়তো আলাদাভাবে খুব একটা ক্ষতিকর বলে মনে করি না।

 

তবে এই অভ্যাসগুলো যখন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার স্থায়ী অংশে পরিণত হয়, তখন তা শরীরের শর্করা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে চরমভাবে ব্যাহত করে, যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমতে সাহায্য করে এবং ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সাড়া দেওয়ার যে স্বাভাবিক সক্ষমতা রয়েছে, তাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।

 

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যকৃতে চর্বি জমার এই সমস্যা বছরের পর বছর ধরে শরীরে কোনো ধরনের দৃশ্যমান উপসর্গ বা লক্ষণ ছাড়াই নীরবে বাসা বাঁধতে পারে। পরবর্তীতে এটি যখন প্রকাশ পায়, ততদিনে তা যকৃতে মারাত্মক প্রদাহ, ক্ষত এবং এমনকি লিভার সিরোসিসের মতো অত্যন্ত জটিল ও প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।

 

তাই দৈনন্দিন জীবনের এমন কিছু অভ্যাসের প্রতি এখন থেকেই বিশেষ নজর দেওয়া এবং সচেতন হওয়া জরুরি, যেগুলো আমাদের অজান্তেই যকৃতের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। বর্তমান ব্যস্ত নাগরিক জীবনে দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রাতে দেরিতে খাবার খাওয়া মানেই যে তা সরাসরি ক্ষতিকর, বিষয়টি ঠিক তেমন নয়।

 

তবে নিয়মিতভাবে রাতের ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ভারী খাবার গ্রহণের ফলে মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত খাওয়ার এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি ঘনঘন অস্বাস্থ্যকর হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস এবং চরম অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠার প্রবল আশঙ্কা থাকে।

 

এই অনিয়মিত অভ্যাসগুলো একজন মানুষের সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য বা মেটাবলিজমের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন প্রতিদিনের খাদ্যশক্তি বা ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ শরীরের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যায়, তখন বড় ধরনের বিপত্তি ঘটে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় এবং জটিল সমস্যাটি হলো আমাদের খাবারের ধরন।

 

রাতের বেলায় অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ, কৃত্রিম মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত শর্করা শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শক্তির জোগান দেয়। শরীর যখন সেই অতিরিক্ত শক্তি পোড়ানোর সুযোগ পায় না, তখন তা সরাসরি যকৃতে চর্বি হিসেবে জমা হতে শুরু করে।

 

তাই চিকিৎসকদের সর্বসম্মত পরামর্শ হলো, রাতের খাবার সবসময় সুষম ও সহজপাচ্য হওয়া উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাতের খাবার খাওয়া এবং ঘুমোতে যাওয়ার মাঝে অন্তত কয়েক ঘণ্টার একটি যৌক্তিক বিরতি রাখা অপরিহার্য।

 

এটি একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন রুটিন গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে, যা যকৃতের সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলের রসকে একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে গণ্য করে থাকেন।

 

প্রাকৃতিকভাবেই ফলের একটি ব্যাপক সুখ্যাতি রয়েছে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে। আর সেই ধারণার বশবর্তী হয়ে প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত ফলের রসকে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার একটি অত্যন্ত সহজ ও বিকল্প উপায় বলে মনে করা হয়।

 

কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। আস্ত ফলের তুলনায় যেকোনো ফলের রসে উপকারী আঁশ বা ফাইবারের পরিমাণ থাকে অত্যন্ত কম। অন্যদিকে, বাজারের বেশিরভাগ প্যাকেটজাত পণ্যে স্বাদ বাড়ানোর জন্য কৃত্রিমভাবে প্রচুর পরিমাণে বাড়তি চিনি মেশানো থাকে।

 

এই ধরনের চিনিযুক্ত পানীয় ঘনঘন পান করার ফলে শরীরে ক্যালরি বা খাদ্যশক্তি গ্রহণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই তরল ক্যালরিগুলো কঠিন খাবারের মতো মানুষের পেট ভরার অনুভূতি দেয় না, ফলে মানুষ সাময়িক তৃষ্ণা মেটাতে আরও বেশি পরিমাণে এই ক্ষতিকর পানীয় গ্রহণ করতে থাকে।

 

শরীরে এই অতিরিক্ত চিনির প্রবেশ, বিশেষ করে যখন সামগ্রিক খাদ্য গ্রহণের পরিমাণও অনেক বেশি থাকে, তখন তা যকৃতে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে বহুগুণে ত্বরান্বিত করে। এই কারণে পুষ্টিবিদরা জোরালো পরামর্শ দেন যে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলের রসের পরিবর্তে সরাসরি আস্ত ফল রাখা স্বাস্থ্যগত দিক থেকে অনেক বেশি নিরাপদ ও উপকারী।

 

আর কৃত্রিম বা মিষ্টি পানীয়ের তৃষ্ণা মেটানোর সবচেয়ে ভালো ও প্রাকৃতিক বিকল্প হতে পারে বিশুদ্ধ পানি, যা যকৃৎকে পরিশোধন করতে দারুণভাবে সাহায্য করে। আধুনিক জীবনের আরেকটি বড় সংকট হলো শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। অনেকেই মনে করেন সকালে কিছুক্ষণ হাঁটা বা ব্যায়ামাগারে গিয়ে ঘাম ঝরানোই সুস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট।

 

সকালে শরীরচর্চা করা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক, তবে এর পাশাপাশি সারা দিনের বেশিরভাগ সময় একটানা বসে থাকার যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে, তা কেবল সকালের ওই সামান্য ব্যায়াম দিয়ে কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব নয়।

 

কর্মক্ষেত্রে বা বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ একটানা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বসে থাকলে তা শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। শরীর কীভাবে রক্তে থাকা শর্করা ও চর্বিকে প্রক্রিয়াজাত করবে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে।

 

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কারণ ইনসুলিন কাজ করতে বাধাগ্রস্ত হলে রক্তে থাকা অতিরিক্ত গ্লুকোজ সরাসরি যকৃতে গিয়ে চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে। তাই চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন যে, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে অন্তত অল্প সময়ের জন্য হাঁটা, কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা কাজের মাঝে একটু নড়াচড়া করা শরীরের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।

 

এর অর্থ এই নয় যে নিয়মিত ব্যায়াম করা বা শরীরচর্চা ছেড়ে দিতে হবে; বরং ব্যায়ামকেই দিনের একমাত্র শারীরিক সক্রিয়তা হিসেবে ধরে নিয়ে বাকি সময়টা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকার যে প্রচলিত ধারণা ও অভ্যাস আমাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তা অবিলম্বে পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

 

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব আধুনিক প্রজন্মের আরেকটি বড় নীরব ঘাতক। কর্মব্যস্ততা বা ডিজিটাল যন্ত্রের প্রতি আসক্তির কারণে বর্তমানে অনেকেই রাতে মাত্র চার বা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পান। কিন্তু নিয়মিতভাবে এই অপর্যাপ্ত ঘুম মানুষের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, শর্করার ভারসাম্য এবং শরীরের অন্যান্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় কাজগুলোতে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

 

দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের এই অভাবজনিত পরিবর্তনগুলো একজন মানুষের স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং শরীরের শক্তির সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করাকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সমস্যার সাথে মানুষের বিপাকীয় ত্রুটির অত্যন্ত গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে যকৃতে চর্বি জমার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

এর মানে অবশ্যই এই নয় যে, কোনো এক রাতে অনিদ্রা বা ঠিকমতো ঘুমাতে না পারলেই তা সরাসরি যকৃতের ক্ষতি করবে। বরং দিনের পর দিন বা বারবার অপর্যাপ্ত ঘুমের যে ক্ষতিকর অভ্যাস মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে, সেটিই চিকিৎসকদের জন্য প্রধান উদ্বেগের বিষয়।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি রাতে অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও গভীর ঘুমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। যকৃৎকে সুস্থ রাখার এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাথমিক ধাপ হতে পারে।

 

সমাজের একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, স্বাভাবিক ওজন বা হালকা-পাতলা গড়ন মানেই সেই ব্যক্তির যকৃৎ সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। শরীরের গঠন বাহ্যিকভাবে পাতলা হলেই যে তার যকৃতে বা পেটের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অতিরিক্ত চর্বি জমে নেই, তা কোনোভাবেই নিশ্চিত করে বলা যায় না।

 

বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষের জিনগত গঠনের কারণে দেখা যায় যে, তাদের উচ্চতা ও ওজনের আনুপাতিক হার একেবারে স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর চারপাশে, বিশেষ করে যকৃতের চারপাশে অতিরিক্ত ও বিপজ্জনক চর্বি জমতে পারে।

 

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে অভ্যন্তরীণ চর্বি বলা হয়। এই অভ্যন্তরীণ চর্বিগুলো বিপাকীয়ভাবে অত্যন্ত সক্রিয় থাকে এবং এগুলো শরীরে ইনসুলিন কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিল বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়।

 

তাই সুস্থতার মাপকাঠি হিসেবে কেবল শরীরের সামগ্রিক ওজনের দিকে নজর না দিয়ে কোমরের মাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, রক্তের চর্বির মাত্রা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য নির্দেশকগুলোর দিকে নিয়মিত খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 

আমাদের সবসময় মনে রাখা প্রয়োজন যে, যকৃতে চর্বি জমার প্রাথমিক লক্ষণগুলো কখনোই বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না। একজন ব্যক্তিকে আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হলেও তার শরীরের অভ্যন্তরে দীর্ঘস্থায়ী ও প্রাণঘাতী বিপাকীয় সমস্যা নীরবে তৈরি হতে পারে।

 

এতসব ঝুঁকির মধ্যেও আশার কথা হলো, যকৃতে চর্বি জমার রোগ যদি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়, তবে জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবস্থার সম্পূর্ণ উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

 

যকৃৎকে সুরক্ষিত রাখতে হলে নিয়মিতভাবে শারীরিক কার্যকলাপ বা ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করা, যেকোনো ধরনের কৃত্রিম মিষ্টিজাতীয় পানীয় বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি সার্বিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের দিকে সর্বোচ্চ নজর দেওয়া একান্ত অপরিহার্য।

 

বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস, রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, পেটে অতিরিক্ত মেদ বা অন্যান্য যেকোনো ধরনের বিপাকীয় ঝুঁকির কারণ রয়েছে, তাদের অবশ্যই কালবিলম্ব না করে নিজেদের যকৃতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে বিস্তারিত পরামর্শ করা উচিত।

 

শুধুমাত্র শরীরের ওজন স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকা এবং মদ্যপান গ্রহণ না করার মানেই যে শরীরে কোনো জটিল রোগ থাকবে না, এমন আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া, বয়স ও শারীরিক অবস্থাভেদে সবার জন্য একই ধরনের চিকিৎসা বা পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না বলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্যই সবচেয়ে বড় ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ হতে পারে।