এই ঘটনাটি ঘটে যখন ৬৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট শেইনবাম মেক্সিকোর ন্যাশনাল প্যালেস থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। মূলত শহরের যানজটে ২০ মিনিটের গাড়ির যাত্রা এড়াতেই তিনি এই পাঁচ মিনিটের হাঁটার পথটি বেছে নেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি, যাকে মাতাল বলে মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্টের কাছে এসে তাকে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করে এবং তার শরীরে হাত দেয়। প্রেসিডেন্ট শেইনবাম শান্তভাবে লোকটির হাত সরিয়ে দেন এবং মুখে কিছুটা দৃঢ় হাসি বজায় রেখে তাকে বলেন, "চিন্তা করবেন না।"
ঘটনার পরপরই মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা রাতেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেন। প্রেসিডেন্ট শেইনবাম বুধবার তার দৈনিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, তিনি কেবল নিজের জন্য নয়, বরং মেক্সিকোর সকল নারীর প্রতি একটি দায়িত্ববোধ থেকে এই অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যদি খোদ প্রেসিডেন্টের সাথেই এমন আচরণ করা হয়, তবে আমাদের দেশের অগণিত তরুণীদের ভাগ্যে কী ঘটবে?" মেয়র ব্রুগাদাও প্রেসিডেন্টের এই মনোভাবকে সমর্থন করে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নারীসহ যেকোনো নারীর ওপর হেনস্তা, সকল নারীর ওপর আক্রমণের শামিল।
প্রেসিডেন্ট শেইনবাম এই ঘটনাকে একটি বৃহত্তর সামাজিক ব্যাধির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মেক্সিকোর সকল রাজ্যকে তাদের বিদ্যমান আইন ও পদ্ধতিগুলো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান, যাতে নারীরা এই ধরনের আক্রমণের শিকার হলে আরও সহজে এবং নির্ভয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
তিনি একটি "জোরালো এবং স্পষ্ট না" শোনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং বলেন যে, "নারীদের ব্যক্তিগত পরিসর কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা উচিত নয়।" এই প্রসঙ্গে, শেইনবাম তার নিজের শৈশবের একটি বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাত্র ১২ বছর বয়সে স্কুলেও গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় তাকেও একই ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল।
শেইনবামের পূর্বসূরি এবং রাজনৈতিক গুরু, আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদরের মতোই তিনিও সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগ রাখতে পছন্দ করেন। তিনি প্রায়শই সেলফি তোলা বা করমর্দনের জন্য জনতার ভিড়ে মিশে যান।
মঙ্গলবারের ওই ঘটনার ভিডিওতে তার নিরাপত্তা কর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়নি, যা প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছে। তবে, প্রেসিডেন্ট শেইনবাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনার জেরে তিনি তার নিরাপত্তা বাড়াবেন না বা জনগণের সাথে মেশার পদ্ধতিতেও কোনো পরিবর্তন আনবেন না।