প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে এই নথিগুলো প্রকাশের নির্দেশ দেন। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি বলেন, "আমাদের দেশের একজন মহান নেতার ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের কয়েক দশক পর আমেরিকান জনগণের সত্য জানার অধিকার রয়েছে।" প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে এফবিআই-এর অভ্যন্তরীণ মেমো এবং সিআইএ-এর এমন কিছু রেকর্ড রয়েছে যা আগে কখনো দিনের আলো দেখেনি।
তবে, এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্টিন লুথার কিং-এর জীবিত দুই সন্তান, মার্টিন তৃতীয় এবং বার্নিস কিং। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, "যারা এই ফাইলগুলো দেখবেন, তাদের কাছে আমাদের পরিবারের অব্যাহত শোকের প্রতি সহানুভূতি, সংযম এবং সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।" তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, "আমাদের বাবা তার জীবদ্দশায় এফবিআই-এর পরিচালক জে. এডগার হুভারের দ্বারা পরিচালিত এক নজরদারি এবং অপপ্রচার অভিযানের শিকার হয়েছিলেন।" তাদের আশঙ্কা, এই নথিগুলোকে তাদের বাবার উত্তরাধিকারকে ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করা হতে পারে।
কিং পরিবারের মধ্যেই অবশ্য ভিন্ন সুর শোনা গেছে। কিং-এর ভাইঝি আলভেদা কিং স্বচ্ছতার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং এটিকে "সত্যের দিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ" বলে অভিহিত করেছেন। এদিকে, ট্রাম্পের সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। নাগরিক অধিকার নেতা আল শার্পটনের মতে, জেফরি এপস্টাইনের ফাইল সংক্রান্ত বিতর্ক থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতেই এটি ট্রাম্পের একটি "মরিয়া প্রচেষ্টা"। উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। এই হত্যাকাণ্ডে জেমস আর্ল রে নামে এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও, কিং পরিবার বরাবরই একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কথা বলে এসেছে। এই নথিগুলো সেই ষড়যন্ত্রের কোনো নতুন দিক উন্মোচন করে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
---